স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উদ্যোগে সম্প্রতি সম্পন্ন জরিপে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের সড়কে প্রতিদিন গড়ে ৬৬ জনের মৃত্যু এবং ১০৪ জনের পঙ্গু হওয়া ঘটছে। এই সংখ্যা দেশের মোট আঘাতজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনাকে চিহ্নিত করেছে। জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় মৃত্যুর হার ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর পঙ্গু হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি-নির্ধারণে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বহুস্তরীয় কারণ কাজ করে আসছে। দেশের দ্রুত বর্ধমান যানবাহনের সংখ্যা, অপর্যাপ্ত রোড মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, ট্রাফিক নিয়মের অবহেলা এবং অপ্রতুল আইন প্রয়োগের ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও উপশহরী এলাকায় রাস্তায় পুকুর, গর্ত এবং অপ্রতুল সাইনেজের উপস্থিতি গাড়ি চালকদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। অতিরিক্তভাবে, অ্যালকোহল সেবন, অতিরিক্ত গতি এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানোর প্রবণতা দুর্ঘটনার হারকে তীব্রতর করেছে। পূর্বে ২০১৯-২০২১ সালের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি সত্ত্বেও মৃত্যুর হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. রেহানা হক জরিপের ফলাফল প্রকাশের পর উল্লেখ করেন, “সড়ক নিরাপত্তা আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে তৎক্ষণাত্ পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।” ট্রাফিক পুলিশ প্রধান শ্রীমন্ত দত্ত জানান, “আইন প্রয়োগে ত্রুটি রয়েছে; অতিরিক্ত গতি ও অ্যালকোহল সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপ করা হবে।” সড়ক নিরাপত্তা সংস্থা (RSA) এর প্রতিনিধিও জোর দিয়ে বলেন, “জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার দ্রুততা বাড়ানো জরুরি।” সাধারণ জনগণের মধ্যে এই তথ্য শেয়ার হওয়ার পর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, এবং বহু নাগরিক রাস্তায় নিরাপদ চলাচলের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানাচ্ছেন।
সরকার ইতিমধ্যে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী মাসে সব প্রধান হাইওয়েতে গতি সীমা কমিয়ে ৮০ কিমি/ঘণ্টা করা হবে এবং গতি লিমিট অতিক্রমকারী গাড়ির জন্য স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা সিস্টেম স্থাপন করা হবে। তদুপরি, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু করা হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরুরি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে, দুর্ঘটনা স্থানে ত্বরিত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করবে। এছাড়া, মিডিয়া ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা ক্যাম্পেইন চালু করা হবে। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে, দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।