রংপুরে শিল্পক্ষেত্রের সম্প্রসারণে আর্থিক সহায়তা ও জ্বালানির ঘাটতি প্রধান বাধা হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে। গত মাসে রংপুর শিল্প ও বাণিজ্য সমিতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, নতুন কারখানা স্থাপন ও বিদ্যমান উৎপাদন ইউনিটের সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় ঋণ ও ক্রেডিটের প্রবেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস ও ডিজেল সরবরাহে ধারাবাহিক ঘাটতি উৎপাদনশীলতাকে হ্রাস করছে। এই পরিস্থিতি রংপুরের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ পরিকল্পনার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে, কারণ শিল্পের বিকাশ কৃষি-নির্ভর অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে আনা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার অন্যতম মূল কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়।
রংপুরের অর্থনৈতিক ভিত্তি ঐতিহাসিকভাবে কৃষি ও কৃষি-সম্পর্কিত শিল্পে গড়ে উঠেছে। শস্য, তেলবীজ ও ফলের উৎপাদন দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থা শিল্প পার্ক, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করেছে। তবে, ঋণদাতাদের কঠোর শর্ত, উচ্চ সুদের হার এবং জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতা এই উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। পূর্বে রংপুরে গৃহীত কিছু সুবিধা, যেমন করমুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, যদিও কিছু মাত্রায় সফল হয়েছে, তবু দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সরবরাহের অভাবের কারণে শিল্পের বিস্তার সীমিত রয়ে গেছে।
স্থানীয় শিল্পপতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলো এই সমস্যার ওপর তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রংপুর শিল্প সমিতির সভাপতি শ্রী মুহাম্মদ আলী জানান, “যদি ঋণ সহজলভ্য না হয় এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী না হয়, তবে নতুন বিনিয়োগকারীরা রংপুরকে বাদ দিয়ে অন্য অঞ্চলে নজর দেবে।” শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিও উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি ঘাটতির ফলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে কর্মীসংখ্যা কমে গিয়ে বেকারত্বের হার বাড়ছে। এছাড়া, স্থানীয় ব্যবসা সমিতি জোর দিয়ে দাবি করেছে যে, সরকার দ্রুত স্বল্প সুদের ঋণ স্কিম চালু করে এবং জ্বালানি ট্যাক্সে ছাড় প্রদান করে শিল্পের পুনরুজ্জীবন নিশ্চিত করা উচিত। এইসব মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রংপুরের অর্থনৈতিক পরিবেশে নেতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠছে, যা বিনিয়োগ আকর্ষণে বাধা সৃষ্টি করছে।
সরকারি দিক থেকে রংপুরে শিল্পের বিকাশে সহায়তা করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে রংপুর শিল্প পার্কে “শিল্প ঋণ সুরক্ষা তহবিল” গঠন করে, যা নির্দিষ্ট শর্তে স্বল্প সুদের ঋণ প্রদান করবে। তদুপরি, জ্বালানি মন্ত্রণালয় রংপুরের শিল্প ইউনিটগুলোকে প্রাকৃতিক গ্যাসের অগ্রাধিকারমূলক সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য নতুন পাইপলাইন প্রকল্প চালু করেছে এবং ডিজেল ট্যাক্সে ১০% ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে। ভবিষ্যতে, এই নীতিগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে রংপুরের শিল্পায়ন পুনরায় গতিপথে ফিরে আসবে এবং কৃষি-নির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে সমন্বিতভাবে টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব হবে।