রংপুরের রূপসী নগরে অবস্থিত গ্লোবাল টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের নতুন কারখানা আজ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিশ্বের সেরা নতুন ভবন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক স্থাপত্য সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল বিল্ডিং অ্যাওয়ার্ডস’ কর্তৃক প্রদান করা হয়েছে, যেখানে নকশা, টেকসইতা, কর্মপরিবেশ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সমন্বিত মানদণ্ডে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জিত হয়েছে। স্থপতি বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার, যিনি ঢাকা নকশাবিদ আর্কিটেক্টসের প্রধান স্থপতি, তার দৃষ্টিকোণ থেকে তৈরি এই ভবনটি আধুনিক নান্দনিকতা এবং পরিবেশবান্ধব উপাদানের সমন্বয় ঘটিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে।

গ্লোবাল টেক্সটাইলের পূর্ববর্তী উৎপাদন সুবিধা ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত হলেও, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত উৎপাদন ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণে পুরনো কাঠামোটি বহুবার সমালোচনার মুখে পড়ে। তাই ২০২২ সালে কোম্পানি নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে রংপুরের পার্শ্ববর্তী জায়গায় ৪০,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে আধুনিক কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা করে। বায়েজিদ মাহবুবের নকশা দল পরিবেশগত প্রভাব কমাতে সৌরশক্তি, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ব্যবস্থা এবং সবুজ ছাদসহ একাধিক টেকসই প্রযুক্তি সংযোজন করে। নকশার মূল লক্ষ্য ছিল কর্মীদের স্বাস্থ্যের উন্নতি, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশগত সার্টিফিকেশন অর্জন।

প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার উল্লেখ করেন, ‘এই ভবনটি শুধুমাত্র একটি উৎপাদন কেন্দ্র নয়, এটি টেকসই উন্নয়নের মডেল, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদাহরণস্বরূপ কাজ করবে’। গ্লোবাল টেক্সটাইলের সিইও রশিদুল হক বলেন, ‘নতুন কারখানা আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করবে এবং রংপুরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে’। রংপুরের মেয়র মোহাম্মদ আলী জানান, ‘এ ধরনের আধুনিক অবকাঠামো আমাদের শহরের শিল্পিক চিত্রকে উজ্জ্বল করবে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে’। স্থানীয় শ্রমিক ও বাসিন্দারা নতুন ভবনের নান্দনিকতা ও কর্মপরিবেশের প্রশংসা করে, ভবিষ্যতে আরও শিল্পের আগমন প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

সরকারি দিক থেকে রংপুর শিল্প উন্নয়ন অধিদপ্তর এই প্রকল্পকে ‘স্মার্ট ইন্ডাস্ট্রি পাইলট’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিশেষ আর্থিক সহায়তা এবং কর ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। ভবনের টেকসই নকশা অনুসারে, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে একই ধরণের নির্মাণকে উৎসাহিত করার জন্য নীতি প্রণয়ন করবে। গ্লোবাল টেক্সটাইলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে অতিরিক্ত তিনটি সমমানের কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যা রংপুরের শিল্প ভিত্তি শক্তিশালী করবে এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করবে। এই উদ্যোগটি দেশের শিল্পায়ন নীতি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।