গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের উত্তরে অবস্থিত এক প্রধান সড়কে, গৃহস্থালি কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা দিনভর চলাচল করতে ভয় পেতে শুরু করেছে। সড়কের দুই পাশে অবিরাম গতি বৃদ্ধি, অপ্রতুল পদচারণা পথ এবং অযথা পার্কিংয়ের ফলে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের গতি অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত হয়ে উঠেছে, ফলে পায়ে হেঁটে চলা মানুষ প্রায়ই ঝুঁকির মুখে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে এই সড়কে মাত্র এক মাসে দশটি গুরুতর পাদচারণা দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে দু’টি মৃত্যুদণ্ডে শেষ হয়েছে। এই পরিস্থিতি জনসাধারণের নিরাপত্তা উদ্বেগকে তীব্র করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি বাড়িয়েছে।
এই সড়কটি মূলত ১৯৭০ দশকে নির্মিত হয়, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে এই সড়কে একক লেনের গাড়ি চলাচল হতো, কিন্তু সম্প্রতি দুই লেনের রূপে রূপান্তরিত হওয়ায় গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, পদচারণা পথের যথাযথ পরিকল্পনা না করা, সিগন্যালের অপ্রতুলতা এবং অপর্যাপ্ত রোড সাইনেজের ফলে পথচারীরা প্রায়ই গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকিতে থাকে। অতীতের রেকর্ডে দেখা যায়, এই সড়কে ২০১৫ থেকে ২০২২ পর্যন্ত মোট ৩৪টি পাদচারণা দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১২টি গুরুতর আঘাতের ফলস্বরূপ হয়েছে। এই ধারাবাহিক ঘটনার পটভূমিতে সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পনা সংক্রান্ত অবহেলা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা এই সমস্যার সমাধানে তীব্র আহ্বান জানিয়েছেন। একজন দীর্ঘদিনের বাসিন্দা বলেন, “সকালবেলা বাজারে যাওয়া বা সন্ধ্যায় সন্তানদের নিয়ে হাঁটা এখনই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; আমরা নিরাপদে চলার অধিকার চাই।” স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশও জানিয়েছেন, “অবৈধ পার্কিং ও অযথা গতি সীমা অমান্য করা গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মানবাধিকার সংস্থা ও সড়ক নিরাপত্তা সমিতি এই সড়কে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে পদচারণা পথের প্রশস্ততা বৃদ্ধি, সিগন্যালের পুনর্নির্মাণ এবং গতি সীমা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এই সকল মন্তব্য ও প্রতিবেদন জনমতকে একত্রিত করে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
অধিকাংশ কর্তৃপক্ষ এখনই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে, যা সড়কের অবস্থা তদারকি, অবৈধ পার্কিং অপসারণ এবং পদচারণা পথের পুনর্নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবে। পাশাপাশি, গতি সীমা কমিয়ে ৪০ কিমি/ঘণ্টা নির্ধারণ করা হবে এবং সিগন্যালের সময়সূচি পুনর্গঠন করা হবে। ভবিষ্যতে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত রোড সাইনেজ এবং জনসচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হবে। এই উদ্যোগগুলো সফল হলে, এই সড়কে দিনভর নিরাপদে চলাচল করা সম্ভব হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে।