২১ ও ২২ অক্টোবর রাতের দিকে হ্যালির ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর পথচলার ফলে আকাশে এক চমকপ্রদ উল্কাবৃষ্টি দেখা যাবে। এই উল্কাবৃষ্টি, যাকে ‘হ্যালি উল্কা’ বলা হয়, সর্বোচ্চ সময়ে প্রতি মিনিটে ১০০টিরও বেশি উল্কা আকাশে ছুটে যাবে। বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এই সময়ে আকাশের অন্ধকারে উজ্জ্বল রঙের উল্কা দেখা যাবে, যা দর্শকদের জন্য এক অনন্য দৃশ্য। এই ঘটনাটি পর্যটন ও বিজ্ঞান সম্প্রদায়ের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

হ্যালির ধূমকেতু পৃথিবীর কক্ষপথে প্রতি ৭৬ বছরে একবার আসে। ১৯৮৬ সালে প্রথমবারের মতো এই ধূমকেতুর ধ্বংসাবশেষের কারণে উল্কা দেখা গিয়েছিল। ২০২১ ও ২০২২ সালে আবারও উল্কা দেখা গিয়েছিল, তবে ২০২৩ সালে এইবারের উল্কা সবচেয়ে চমকপ্রদ হবে বলে বিজ্ঞানীরা বলছেন। ধ্বংসাবশেষের কণাগুলি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করলে তারা দ্রুত জ্বলে উঠে উল্কা আকারে আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়ায় উল্কাগুলি বিভিন্ন রঙে জ্বলে উঠে আকাশকে আলোকিত করে।

আকাশ পর্যবেক্ষণকারী বিজ্ঞানী ড. রিয়া আহমেদ বলেন, ‘এই উল্কাবৃষ্টি পর্যবেক্ষণ করলে আমরা ধূমকেতুর গঠন ও গতি সম্পর্কে আরও জানতে পারব।’ স্থানীয় পর্যটন বিভাগও উল্কা দর্শনের জন্য বিশেষ গাইডলাইন প্রস্তুত করেছে। তারা রাতের ১০টা থেকে ২টার মধ্যে উল্কা দর্শনের জন্য পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাবে। এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও উল্কা পর্যবেক্ষণ ক্লাস আয়োজন করছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা বিজ্ঞান সম্পর্কে আগ্রহী হয়।

জাতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান (NAR) ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় উভয়ই উল্কা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ টিভি চ্যানেল ও অনলাইন স্ট্রিমিং সেবা চালু করেছে। তারা নিরাপদ পর্যবেক্ষণ এলাকা নির্ধারণ করেছে এবং বায়ু দূষণ ও আলো দূষণ কমানোর জন্য নির্দেশনা জারি করেছে। ভবিষ্যতে, ২০৪০ সালে হ্যালির ধূমকেতু আবারও পৃথিবীর কক্ষপথে আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তাই বিজ্ঞানীরা দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা চালিয়ে যাবেন।