একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ২৯৫ শিশুর ওপর পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, সাপ ও পোকামাকড়ের প্রতি ভয় এবং প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ দুটি আলাদা মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য। গবেষকরা শিশুদের ভয় ও প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ মাপার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা চালিয়েছেন। ফলাফল দেখিয়েছে যে, ভয় থাকা সত্ত্বেও অনেক শিশু প্রকৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই ফলাফল প্রমাণ করে যে, প্রকৃতির প্রতি অনাগ্রহের ধারণা ভুল।

পূর্বে বিজ্ঞানীরা ধরে নিয়েছিলেন যে, প্রাণীর প্রতি ভয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকৃতির প্রতি অনাগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু এই গবেষণা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০ শিশু ও কঙ্গোর ১৪৫ শিশুকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করা হয়। শিশুদের ভয় প্রতিক্রিয়া মাপার জন্য সাপ ও পোকামাকড়ের ছবি ও বাস্তব মডেল ব্যবহার করা হয়, আর প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ মাপার জন্য বনভূমি ও জলাশয়ের ছবি ও ইন্টারেক্টিভ গেম ব্যবহার করা হয়।

গবেষণা পরিচালনাকারী ড. রাহুল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ফলাফল দেখায় যে ভয় ও আগ্রহ পৃথক মনস্তাত্ত্বিক গঠন।’ পিতামাতা ও শিক্ষাবিদরা এই ফলাফলকে শিক্ষামূলক প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, ‘শিশুদের প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ভয় দূর করার চেয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করা জরুরি।’ পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলোও এই গবেষণাকে সমর্থন করে বলেছে, ‘প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে ভয়কে হ্রাস করার চেয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া উচিত।’

বাংলাদেশের শিক্ষা ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় গবেষণার ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে শিশুদের জন্য প্রকৃতি শিক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করছে। মন্ত্রী মেহেদী আহমেদ বলেন, ‘আমরা শিশুদের প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়াতে স্কুলে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও ফিল্ড ট্রিপের ব্যবস্থা করব।’ এছাড়া, গবেষণা সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভবিষ্যতে বড় আকারের গবেষণা চালিয়ে ভয় ও আগ্রহের সম্পর্ক আরও বিশদে বিশ্লেষণ করার পরিকল্পনা করছে।