সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদার বাছাইয়ের নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আসছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, বেশি বার্ষিক লেনদেন কিংবা আগে বড় কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই বলে নতুনদের অংশগ্রহণ আটকে দেওয়া যাবে না। এই নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে সরকারি কাজের ক্ষেত্রে নতুন ঠিকাদারদের জন্য দুয়ার খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন রক্তের প্রবাহ সৃষ্টি হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি মূলত বাজারের স্বাভাবিক প্রবাহকে সুগম করতে এবং নতুন উদ্যোক্তাদেরকে সরকারি খাতের কাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দশকে সরকারি কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞতা ও বার্ষিক লেনদেনের মানদণ্ড ছিল অত্যন্ত কঠোর। এর ফলে নতুন ঠিকাদাররা প্রাথমিক পর্যায়েই বাছাই থেকে বাদ পড়তেন, যাতে করে বাজারে একচেটিয়া অবস্থান তৈরি হতো। এই পদ্ধতিতে নতুনদের হাতে কাজ পাওয়ার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনীতিতে নতুন প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এই নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও যোগ্যতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলে নতুনদেরকেও সরকারি কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।
ঠিকাদার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের মতে, এতে করে দেশের অর্থনীতিতে নতুন ঠিকাদারদের ভূমিকা বাড়বে এবং কাজের মান উন্নত হবে। জনসাধারণের মধ্যেও এই সিদ্ধান্তের প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানুষ আশা করছে, নতুনদের অংশগ্রহণে কাজের গতি বাড়বে এবং ব্যয় সাশ্রয় হবে। তবে কিছু পুরনো ঠিকাদাররা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আছেন, তাঁরা মনে করেন অভিজ্ঞতার অভাবে কাজের মান কমে যেতে পারে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুনদেরকে প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট কাজ দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে করে তারা ধাপে ধাপে বড় কাজে অংশ নিতে পারে।
সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। কাজের মান ও সময়মতো সম্পন্ন করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ঠিকাদারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন মাত্রা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন ঠিকাদারদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে, যাতে করে তারা কাজের মান বজায় রাখতে পারে। এই সিদ্ধান্তটি দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।