১৪ বছর পর গৃহবধূ রীতি খাতুন আবার শিক্ষার পথে পা বাড়িয়ে সংসারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে হাইস্কুল সার্টিফিকেশন (এইচএসসি) পরীক্ষা দিয়েছেন এবং জিপিএ‑৫ পেয়েছেন। বিয়ের পর দীর্ঘ সময়ের জন্য পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল; সন্তান পালন, গৃহকর্ম এবং পরিবারের আর্থিক চাহিদা তাকে শিক্ষার থেকে দূরে রাখে। তবে নিজের স্বপ্নকে ত্যাগ না করে রীতি সিদ্ধান্ত নেন যে, সন্তান বড় হলে নিজে আবার পড়াশোনা শুরু করবেন। এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং গৃহবধূদের জন্য একটি প্রেরণাদায়ক উদাহরণ, যা সমাজে নারীর শিক্ষার গুরুত্বকে পুনরায় জোর দেয়।

রীতির শিক্ষাজীবনের পটভূমি বোঝা গেলে দেখা যায়, তিনি মাধ্যমিক শেষ করার পরই গৃহস্থালির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরিবারিক আর্থিক সংকট, সন্তানদের শিক্ষার খরচ এবং সামাজিক চাপের ফলে তার উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে গৃহবধূদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সীমিত, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দূরত্ব ও পরিবহন সমস্যার কারণে। তবুও রীতি নিজে নিজে সময় বের করে সন্ধ্যায় স্থানীয় কলেজের প্রিপারেশন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেন, স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাহায্য নেন এবং অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করে জ্ঞান অর্জন করেন। তার এই সংগ্রাম বহু গৃহবধূকে আত্মবিশ্বাস জোগায় যে, বাধা যতই বড় হোক, শিক্ষা কখনো শেষ হয় না।

পরীক্ষার ফলাফল জানার পর রীতি খাতুনের মুখে আনন্দের অশ্রু ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “আমি আমার সন্তানদের দেখাতে চাই যে, মা হলেও স্বপ্ন দেখা ও তা পূরণ করা সম্ভব।” তার স্বামী ও সন্তানরা তার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে, বিশেষ করে স্বামী কাজের সময়সূচি পরিবর্তন করে রীতিকে পড়াশোনার জন্য সময় দেন। রীতির শিক্ষক ও কলেজের প্রধানও তার অধ্যবসায়ের প্রশংসা করেন, বলেন, “এমন উদাহরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মডেল হতে পারে।” স্থানীয় সমাজের মানুষও রীতির সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে, অনেক গৃহবধূ তাকে অনুসরণ করে নিজের শিক্ষার পরিকল্পনা শুরু করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় রীতি খাতুনের মতো গৃহবধূদের জন্য বিশেষ adult education প্রোগ্রাম চালু করার কথা ঘোষণা করেছে। সরকার এখন থেকে দূরশিক্ষা, স্কলারশিপ এবং নমনীয় সময়সূচি সহ বিভিন্ন সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যাতে গৃহবধূ ও কর্মরত নারীরা শিক্ষায় ফিরে আসতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন এনজিও ও সিভিল সোসাইটি সংগঠনও রীতির মতো নারীদের জন্য টিউশন ফি মওকুফ, পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ এবং মানসিক পরামর্শ সেবা প্রদান করবে। রীতি নিজেও ভবিষ্যতে গৃহবধূ শিক্ষার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।