ঢাকার রামলীলার মঞ্চে ইন্ডিয়া জোটের বিশাল সমাবেশের আয়োজনের পর, বিরোধী দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে একা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই সমাবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিজেপি মুখপাত্র একটি ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে দাবি করেছেন যে, সমাবেশের সময় সাদা কাপড়ে মোড়া বহু খালি চেয়ার দৃশ্যমান, যা সমাবেশের প্রকৃত উপস্থিতি ও জনসাধারণের অংশগ্রহণকে সন্দেহের মুখে ফেলেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু লোক অলসভাবে মঞ্চের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তবে কোনো উচ্ছ্বাসপূর্ণ ভিড়ের চিহ্ন নেই। এই দৃশ্যের মাধ্যমে বিজেপি ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশের সত্যিকারের মাত্রা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে চায়।

রামলীলার ঐতিহ্যবাহী মঞ্চটি সবসময়ই রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য জনমত গঠন ও সমর্থন সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে বিভিন্ন দল রামলীলার সময় বিশাল সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছে। তবে এই বছর ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশের পরিকল্পনা বিশেষভাবে বিশাল আকারের, যা দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে সমর্থক ও কর্মীকে একত্রিত করার লক্ষ্যে ছিল। সমাবেশের পূর্বে ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, রামলীলার ধর্মীয় পরিবেশে রাজনৈতিক আলোচনা করা জনগণের ঐক্য ও সমন্বয় বাড়াবে। তবে সমাবেশের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা, জনসাধারণের স্বাস্থ্যের দিক এবং স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে নানা বিতর্ক উত্থাপিত হয়েছে।

বিজেপি মুখপাত্রের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা কাপড়ে মোড়া চেয়ারগুলো একে একে মঞ্চের পাশে সাজানো, তবে কোনো ভোটার বা সমর্থকের উপস্থিতি স্পষ্ট নয়। মুখপাত্রের মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন, "যদি সমাবেশের সত্যিকারের জনসাধারণের অংশগ্রহণ না থাকে, তবে এই ধরনের বড় সমাবেশের উদ্দেশ্য কী?" তিনি আরও বলেছিলেন, "ইন্ডিয়া জোটের এই প্রচেষ্টা শুধুমাত্র রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ছদ্মবেশে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যবহার করে ভোটারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।" এই মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন নাগরিকের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। কিছুজন ভিডিওকে সত্যি হিসেবে গ্রহণ করে বিজেপির সমালোচনাকে সমর্থন করেন, আবার অন্যরা এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, সমাবেশের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জনসাধারণের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশ সমাবেশের স্থানীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশন সমাবেশের অনুমোদন শর্তাবলী পুনরায় যাচাই করে, কোনো রাজনৈতিক দলকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভোটারকে প্রভাবিত করা নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। ভবিষ্যতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশের পরিকল্পনা যদি পুনরায় করা হয়, তবে তা যথাযথ অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই ধরনের সমাবেশের ব্যবহার নিয়ে চলমান বিতর্কের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি বাড়বে।