ঢাকার এক প্রান্তে অবস্থিত পুরনো পাড়া গাঁথা রোডে, ছয়জন পুত্রের মা শ্রীমতী রোশনি বেগমের পাকা বাড়ি নির্মাণের পরও তার ঘরে কোনো অতিথি, কোনো আত্মীয়‑স্বজনের জন্য ঠাঁই না পাওয়া নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছেন। গত সপ্তাহে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দুই বছর আগে তিনি ও তার স্বামী একসাথে সঞ্চয় করে একটি দুই তলা বাড়ি তৈরি করলেন, তবে বাড়ির অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা ও জোরালো পারিবারিক চাহিদার কারণে এখনো কোনো অতিথি বসাতে পারছেন না। এই পরিস্থিতি তার সামাজিক মর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে, যা স্থানীয় সমাজে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বাড়ি নির্মাণের পেছনে রয়েছে দেশের সামগ্রিক গৃহসঙ্কট ও নগরায়নের দ্রুত গতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামীণ অঞ্চল থেকে শহরে কর্মসংস্থানের সন্ধানে অভিবাসনের হার বেড়ে চলেছে, ফলে নগর এলাকায় জমির দাম ও বাসস্থানের অভাব তীব্রতর হয়েছে। রোশনি বেগমের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সীমিত আর্থিক সম্পদে স্বল্প সময়ে একটি পাকা বাড়ি গড়ে তোলার চেষ্টা করে, তবে পরিকল্পনা ও নকশার যথাযথ জ্ঞান না থাকায় প্রায়ই অপ্রয়োজনীয় ঘরবাড়ি তৈরি হয়, যা ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপ্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়ায়। এই ধরনের গৃহসঙ্কটের মূল কারণ হল নগর পরিকল্পনা ও সাশ্রয়ী বাসস্থানের নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া।

মা রোশনি বেগমের কথায় স্পষ্ট যে, তিনি এই সমস্যার সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিওদের সহায়তা প্রত্যাশা করছেন। গাঁথা রোডের উপজেলা পরিষদের প্রধান জানান, তারা ইতিমধ্যে এই ধরনের সমস্যার সমাধানে কিছু টেকসই পরিকল্পনা তৈরি করেছে, তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতা ও প্রকল্পের ধীরগতি বাধা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি, স্থানীয় এক সামাজিক সংস্থা প্রতিনিধিও উল্লেখ করেন, তারা স্বেচ্ছাসেবক ও দাতাদের মাধ্যমে ঘরবাড়ি পুনর্গঠন ও ব্যবহারিকতা বাড়ানোর জন্য কর্মশালা চালু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান আশা প্রকাশ করেছেন।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে, সরকারী দিক থেকে গৃহসঙ্কট মোকাবেলায় নতুন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। গৃহ মন্ত্রণালয়ের অধীনে 'সাশ্রয়ী বাসস্থান' প্রকল্পের আওতায় নগর এলাকায় কম দামের ফ্ল্যাট ও বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে লক্ষ্য করে। এছাড়া, স্থানীয় সরকারগুলোকে বাড়ি নির্মাণে টেকসই নকশা ও সঠিক পরিকল্পনা নিশ্চিত করার জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে, রোশনি বেগমের মতো পরিবারগুলোকে সঠিক পরামর্শ ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে, তাদের গৃহের ব্যবহারিকতা বাড়িয়ে, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।