সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পূর্বরাতে দেশটির কারাগারে বন্দি বাংলাদেশি নাগরিক সুইটি আক্তারের বাবা তাঁর মেয়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে কারাগারে অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে এই সাক্ষাৎটি সম্পন্ন হয়। পরিবারের সদস্যদের জানা গেছে, বাবা মেয়ের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে ভালোবাসা ও সমর্থন প্রদান করেছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগের এই শেষ সাক্ষাৎ পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং আবেগঘন। বাবা মেয়ের মুখে কোনো অভিযোগ বা প্রতিবাদ শুনতে পাননি, বরং মেয়ে তাঁকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ঘটনাটি বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং পরিবারের সদস্যরা এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
সুইটি আক্তারের বিরুদ্ধে সৌদি আরবে মানসিক অসুস্থতার প্রেক্ষাপটে মাদক ব্যবসার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা পরিবার পুরোপুরি অস্বীকার করছে। তাঁদের মতে, সুইটি কোনো ধরনের অপরাধী নয় এবং তাঁর মানসিক অবস্থার কারণে তিনি এমন কোনো কাজ করতে পারেননি। পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাঁর মানসিক অবস্থার বিষয়টি উপেক্ষা করে এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। সুইটি আক্তারের মা-বাবা এখন সৌদি আরবে অবস্থান করছেন এবং তাঁদের মূল উদ্দেশ্য হলো মেয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর মেয়ের মরদেহ দেখতে চান তাঁরা, যাতে তাঁরা নিশ্চিত হতে পারেন যে তাঁদের মেয়ে সত্যিই মৃত এবং তাঁর শেষ নিঃশ্বাস নেওয়ার মুহূর্তটি তাঁরা দেখতে পান।
সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বাংলাদেশি সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি মানবিক বিবেচনা প্রদান এবং মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সুইটির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁরা এই মৃত্যুদণ্ডের রায়কে অবিচারের পরিচয় হিসেবে দেখছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় সম্মিলিতভাবে লড়তে প্রস্তুত। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারাও এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্নের চেষ্টা করছেন। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, সুইটি ছিলেন একজন সাধারণ এবং নিঃসঙ্গ মেয়ে, যিনি কখনোই এমন কোনো অপরাধে জড়িত ছিলেন না। তাঁদের এই দাবির পেছনে রয়েছে মানসিক অসুস্থতার প্রমাণ এবং সৌদি আইনের অধীন মানবিক বিবেচনার আবেদন।
সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে কোনো নতুন ঘোষণা দেয়নি, তবে স্থানীয় সময় বুধবার রাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সুইটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে আছে এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ঘটনাটি বাংলাদেশি শ্রমিকদের সৌদি আরবে নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার বিষয়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা এমন কোনো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেবে না এবং সব ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পরিবার এখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় আছেন এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার আশা করছেন।