প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর আজ থেকে তিন দিনব্যাপী নির্ধারিত হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য দেশের মেট্রোরেল প্রকল্পের খরচ হ্রাসের জন্য জাপানি প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করা। সফরের সময় টোকিও, ইয়োকোহামা এবং ওসাকা সহ বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই সফরে মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যবহৃত উচ্চমানের রেল প্রযুক্তি, সিগন্যালিং সিস্টেম এবং টিকসই অর্থায়ন মডেল নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়াও, জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিনিময়, শিক্ষা ও পর্যটন ক্ষেত্রের সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও সমন্বয় করা হবে। সফরের শেষে দুই দিনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

গত দশকে বাংলাদেশে মেট্রোরেল প্রকল্পের খরচ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, মূলত মুদ্রা স্ফীতির প্রভাব, প্রযুক্তি আমদানি এবং উচ্চ সুদের হারকে কেন্দ্র করে। ঢাকা মেট্রোরেল প্রথম ধাপের মোট বাজেট প্রাথমিকভাবে ৪০ বিলিয়ন টাকার নির্ধারিত ছিল, তবে বাস্তবায়নের সময় তা প্রায় ৬০ বিলিয়নে ছুঁয়ে গেছে। পূর্বে জাপান সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (JICA) থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ঋণ সুবিধা গ্রহণের জন্য আলোচনা চালু ছিল, তবে খরচ কাঠামোর স্বচ্ছতা ও শর্তাবলীর পার্থক্যের কারণে চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। এই ব্যর্থতা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের গতি ধীর করে তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রথম দিনে টোকিওতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি জাপানি পার্টনারদের কাছে মেট্রোরেল প্রকল্পের খরচ হ্রাসের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যৌথ গবেষণা প্রস্তাব করেন। জাপানের অর্থমন্ত্রীর সহকারী, হিরোশি তানাকা, বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সহায়তা এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুত আছেন বলে জানান। দেশের অর্থনীতিবিদ ড. রশিদ হক উল্লেখ করেন, যদি জাপান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যের রেল উপাদান ও সিগন্যালিং সিস্টেম সরবরাহ করা যায়, তবে প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ কমে আসতে পারে। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই সফরকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, টিকসই ও সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

সরকার ইতিমধ্যে জাপান সরকারের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি খসড়া প্রস্তুত করেছে, যেখানে রেল উপাদান ক্রয়, প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং নিম্ন সুদের হারে ঋণ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামী সপ্তাহে ঢাকা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জাপানি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন সভা পরিচালনা করবে এবং খরচ হ্রাসের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে। যদি এই সমঝোতা সফল হয়, তবে মেট্রোরেল প্রকল্পের সময়সূচি ত্বরান্বিত হবে এবং দেশের নগর পরিবহন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে এবং দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়াবে।