পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জমি, বাড়ি বা অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রচলিত পদ্ধতি দান ও হেবা। তবে এই হস্তান্তরে করের প্রযোজ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে। দানকর, আয়কর ও সম্পত্তি হস্তান্তরের হিসাব কীভাবে করা হবে, তা না জানলে অনেক পরিবার অনিচ্ছাকৃতভাবে করের দায় থেকে বঞ্চিত হতে পারে অথবা অতিরিক্ত কর পরিশোধে বাধ্য হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারী কর বিভাগ এবং আইনি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি ব্যাপক ব্যাখ্যা প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

দানের ক্ষেত্রে দানকর আইন ১৯৯১ অনুসারে, দানকৃত সম্পত্তির বাজারমূল্য যদি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে তবে দানকারীকে দানকর দিতে হয়। হেবা, অর্থাৎ শর্তসাপেক্ষে সম্পত্তি হস্তান্তর, যদি শর্ত পূরণ না হয় বা শর্তের ভিত্তিতে সম্পত্তি ফেরত নেওয়া হয়, তবে তা দানের সমতুল্য বিবেচিত হয় এবং একই করের বিধি প্রযোজ্য হয়। অন্যদিকে, পারিবারিক হস্তান্তরে যদি সম্পত্তি সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর করা হয় এবং শর্ত না থাকে, তবে তা করমুক্ত হতে পারে, তবে তা নির্ভর করে হস্তান্তরের প্রকৃতি, সম্পত্তির মূল্য এবং হস্তান্তরের সময়ের আইনি নথিপত্রের উপর। অতএব, দান বা হেবার মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পূর্বে সঠিকভাবে করের হিসাব নির্ধারণ করা অপরিহার্য।

কর বিভাগে কর্মরত কর বিশেষজ্ঞ শ্রীমতি রেহানা আহমেদ জানান, “দানের সময় দানকৃত সম্পত্তির ন্যায্য বাজারমূল্য নির্ধারণের জন্য স্বতন্ত্র মূল্যায়ন সংস্থা থেকে রিভিউ নেওয়া উচিত। যদি দানের মূল্য শূন্য বা কম হয়, তবে তা কর এড়ানোর উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং দণ্ডনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এছাড়া, আইনি বিশ্লেষক জাহিদুল হক উল্লেখ করেন, “হেবার ক্ষেত্রে শর্তের স্পষ্টতা এবং শর্ত পূরণের সময়সীমা নথিভুক্ত করা দরকার, নতুবা তা দান হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দানকর আরোপিত হবে।” সাধারণ মানুষও এই ব্যাখ্যা থেকে উপকৃত হয়ে, হেবার শর্ত পূরণ না হলে দানকর পরিশোধের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে পারে।

সরকারি কর বিভাগ ইতিমধ্যে “দান ও হেবা কর গাইডলাইন” নামে একটি বিস্তৃত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে দানকর, আয়কর এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের হিসাবের ধাপগুলো বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, করদাতাদের জন্য অনলাইন ট্যাক্স ক্যালকুলেটর চালু করা হয়েছে, যা দান বা হেবার সময় প্রযোজ্য করের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ণয় করতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে, কর বিভাগ হেবার শর্তের পর্যবেক্ষণ বাড়াতে এবং অনিয়মিত দানকে চিহ্নিত করতে ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে, যাতে কর শূন্যতা ও ট্যাক্স চোরাচালান রোধ করা যায়। এই পদক্ষেপগুলো পরিবারিক সম্পত্তি হস্তান্তরের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে, কর সংগ্রহের দক্ষতা বাড়াবে এবং দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সহায়ক হবে।