গত রাত ২২:৩০ টার দিকে ঢাকা শহরের পূর্বাঞ্চল (ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন, মতিঝিল ইত্যাদি) এবং চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বাসিন্দা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ সকল সেবা ক্ষেত্রেই তৎক্ষণাৎ প্রভাব পড়েছে। পিএলসির (পাওয়ার লোড কমিটি) তথ্য অনুযায়ী, এই বিভ্রাটের ফলে প্রায় ১.২ লক্ষ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ আটকে গিয়েছে এবং তা দুই ঘণ্টা পর পুনরায় চালু করা হয়েছে। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ক্ষতি ও জনসাধারণের নিরাপত্তা উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলেছে।
বিপর্যয়ের পেছনে মূলত পুরনো ট্রান্সফরমার ও অতিরিক্ত লোডিংয়ের ফলে সৃষ্ট ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে। গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই রকম বিদ্যুৎ ঘাটতির অভিযোগ উঠে আসছে, যা বিদ্যুৎ গ্রিডের অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি নির্দেশ করে। বিশেষ করে গ্রীষ্মের গরমের সময়ে চাহিদা বৃদ্ধি পায়, ফলে বিদ্যুৎ সংস্থার ক্ষমতা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে। পূর্বে একই এলাকায় কয়েকবার সাময়িক রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ফলে সামান্য সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে থাকে, তবে এইবারের ঘটনা দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ে।
পিএলসির মুখপাত্র জানান, “বিপর্যয়ের মূল কারণ ট্রান্সফরমার ত্রুটি এবং অতিরিক্ত লোডিং, যা দ্রুতই সমাধান করা হবে।” স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করেন। বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ফলে খাবার নষ্ট হওয়া, রোগীর যত্নে বাধা ইত্যাদি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রয় হ্রাস, উৎপাদন থেমে যাওয়া ও কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ সমস্যায় পড়েছে।
অধিকাংশ এলাকায় দুই ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ পুনরায় চালু হওয়া সত্ত্বেও, কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ সংস্থা নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন, পুরনো সরঞ্জামের আধুনিকায়ন ও লোড শেডিং নিয়ন্ত্রণের জন্য স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এমন অপ্রত্যাশিত বিভ্রাট রোধে রিজার্ভ ক্ষমতা বাড়ানো, রক্ষণাবেক্ষণ সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণ করা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা হবে। সরকারও এই ধরনের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বাজেট বৃদ্ধি করে, গ্রামীণ ও নগর উভয় এলাকায় সমানভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।