গত বুধবার বিকেলে ঢাকা বাণিজ্য মেলায় এক অপ্রত্যাশিত প্রতিবাদে শহরের নজর কাড়ে। শেকৃবির (শেখ রেজি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট) শিক্ষার্থীরা সচিবালয় স্থানান্তরের বিরোধে মেলায় উপস্থিত হয়ে, মেলায় প্রদর্শিত যন্ত্রাংশের গুদাম থেকে কয়েকটি মূল্যবান যন্ত্রাংশ এবং দুইটি সরকারি গাড়ি অনধিকারভাবে তুলে নেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মী ও দর্শকরা চমকে রইল, কারণ শিক্ষার্থীরা সশস্ত্রভাবে না গিয়ে, সরাসরি গুদাম ও গাড়ি পার্কে প্রবেশ করে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের নীতি পরিবর্তনের প্রতি জনসাধারণের তীব্র বিরোধিতা এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষার প্রশ্ন উত্থাপন করে, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা গত বছর সরকারী মন্ত্রিসভা থেকে অনুমোদিত হয়, যেখানে মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় অতিরিক্ত ট্রাফিকের চাপ কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত স্থলটি পূর্বে বাণিজ্য মেলার জন্য নির্ধারিত ছিল, যা বহুবার আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মেলা আয়োজনের জন্য ব্যবহৃত হয়। শেকৃবির শিক্ষার্থীরা, যারা মেলায় তাদের প্রকল্প ও গবেষণা প্রদর্শন করতে আসেন, তারা লক্ষ্য করে যে স্থানান্তরের ফলে তাদের গবেষণা সরঞ্জাম ও প্রদর্শনী সামগ্রী নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। অতএব, তারা এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘অবহেলাপূর্ণ’ বলে গণ্য করে, এবং তা বিরোধের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরে।

প্রতিবাদের পর শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি শ্রীমতি রিমা বেগম মিডিয়ায় জানায়, “আমরা শেকৃবির শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনকারী, আমাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে নিরাপদে চালাতে হবে। সচিবালয় স্থানান্তর আমাদের প্রকল্পের নিরাপত্তা ও চলমান গবেষণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তাই আমরা এই পদক্ষেপের বিরোধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছি।” অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সচিব, শ্রীমন্ত শর্মা, প্রকাশ্যে বললেন, “সরকারের সিদ্ধান্ত আইনগত ভিত্তিতে এবং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। যেকোনো অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীও এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে, কিছুজন বলছেন, “যদি শিক্ষার্থীরা এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়, তবে সরকারের নীতি প্রণয়নে আরও স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা দরকার।”

প্রতিবাদের পরপরই ঢাকা পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে জরুরি পদক্ষেপ নেয়। পুলিশ কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা যন্ত্রাংশ ও গাড়ি পুনরুদ্ধার করে, এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করে জেলবন্দি করে। পাশাপাশি, মন্ত্রিপরিষদে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়, যেখানে সচিবালয় স্থানান্তরের পুনর্বিবেচনা ও বিকল্প স্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের প্রতিবাদ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নীতি নির্ধারণে জনমতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।