গতকাল টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান জাপানের সঙ্গে চলমান উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাপান থেকে প্রাপ্ত প্রযুক্তি, আর্থিক সহায়তা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের অবকাঠামো, শক্তি ও শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা দেশের টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশের উন্নয়ন কাহিনীর নতুন অধ্যায় হিসেবে জাপানের ভূমিকা উল্লেখিত হয়।
বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শিকড় ১৯৭০ দশকে ফিরে যায়, যখন জাপান প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার জন্য তহবিল সরবরাহ করে। এরপর থেকে দুই দেশ বহু ক্ষেত্রেই সমন্বিত কাজ করেছে; জাপান সরকার ‘জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এজেন্সি’ (JICA) এর মাধ্যমে রেলওয়ে, সড়ক, বন্দর ও বায়ু শক্তি প্রকল্পে বিশাল বিনিয়োগ করেছে। অতিরিক্তভাবে, জাপান থেকে সরবরাহিত উচ্চমানের প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাংলাদেশের মানবসম্পদকে আধুনিক শিল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা দেশের অর্থনৈতিক গতি বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
সম্মেলনে জাপান দূতাবাসের প্রধান শিনোবু সাকাইওয়ারা জাপানের সহযোগিতা কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং জ্ঞান ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দু’দেশের পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করার দৃষ্টিকোণ থেকে চালু থাকবে বলে উল্লেখ করেন। দেশের বিভিন্ন শিল্প সমিতি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জাপানের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, বিশেষত গ্রামীণ বিদ্যুৎ প্রকল্প ও ডিজিটাল শিক্ষা ক্ষেত্রে ত্বরান্বিত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। সাধারণ জনগণের মধ্যে জাপান থেকে আসা উন্নত প্রযুক্তি ও সেবা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা গড়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, সরকার জাপানের সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি, স্মার্ট সিটি ও স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা ও বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য একটি সমন্বিত তত্ত্বাবধান কমিটি গঠন করা হবে, যাতে প্রকল্পের গুণগত মান ও সময়সীমা নিশ্চিত করা যায়। ভবিষ্যতে জাপানকে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে গণ্য করে, উভয় দেশ একসঙ্গে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে বলে সরকারী পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়েছে।