গতকাল বিকাল ৩টায় ঢাকা শহরের গুলশান পার্কে অনুষ্ঠিত দৌড়ের পূর্বে আয়োজন করা পরিবারিক উৎসবের দৃশ্যপট সারা দেশের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। দৌড়ের শুরুতে অংশগ্রহণকারী দৌড়বিদ ও তাদের পরিবারকে স্বাগত জানাতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সাংস্কৃতিক দল একত্রিত হয়ে রঙিন প্যানেল, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করে। বিশেষ করে ছোট শিশুরা বিভিন্ন রঙের পেন্সিল ও ক্রেয়ন ব্যবহার করে দৌড়ের থিম ‘একতা ও স্বাস্থ্য’ ভিত্তিক ছবি অঙ্কন করে, যা দর্শকদের মাঝে উচ্ছ্বাসের সঞ্চার ঘটায়। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল পারিবারিক বন্ধনকে জোরদার করার পাশাপাশি শারীরিক সক্রিয়তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা।

এই ধরনের পূর্ব-দৌড় উৎসবের ঐতিহাসিক পটভূমি ২০০৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘ঢাকা ম্যারাথন’ এর সঙ্গে যুক্ত। প্রথমবারের মতো দৌড়ের পূর্বে পরিবারিক সমাবেশের ধারণা স্থানীয় ক্রীড়া অধিদপ্তর ও সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গৃহীত হয়, যার লক্ষ্য ছিল দৌড়ের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা এবং শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা জাগ্রত করা। পূর্বে শুধুমাত্র দৌড়ের রেসই কেন্দ্রবিন্দু ছিল, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব স্বীকৃত হয়ে বিভিন্ন শহরে অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গুলশান পার্কে এইবারের আয়োজনের পেছনে গৃহীত পরিকল্পনা ছিল স্থানীয় শিল্পী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ তৈরি করা।

উদ্যোগের সমন্বয়কারী ক্রীড়া অধিদপ্তরের উপ-দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রীমতি রেহানা বেগমের মতে, “শিশুদের সৃজনশীলতা ও পারিবারিক সমর্থন দৌড়ের সফলতা নিশ্চিত করে”। গুলশান পার্কের মেয়র জয়ন্ত চৌধুরীরাও উপস্থিত থেকে শিশুদের অঙ্কিত ছবিগুলোকে প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এধরনের কার্যক্রমকে নিয়মিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। অংশগ্রহণকারী দৌড়বিদ রাহুল চৌধুরী জানান, “পরিবারের সঙ্গে এই ধরনের উৎসবে অংশ নেওয়া মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং দৌড়ের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে”। স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শকগণও সামাজিক মিডিয়ায় উৎসবের ছবি শেয়ার করে প্রশংসা প্রকাশ করেছেন, যা সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ চিত্রকে আরও দৃঢ় করেছে।

অধিদপ্তর এখন থেকে গুলশান পার্কে প্রতি বছর দৌড়ের পূর্বে পরিবারিক উৎসবের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকে স্থানীয় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দল একত্রে কাজ করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি সেবা প্রদান করবে। এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসবের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ক কর্মশালা পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ধারণা গড়ে ওঠে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী বছর থেকে দৌড়ের থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমের সমন্বয় করা হবে, যা জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রসারকে ত্বরান্বিত করবে।