গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের একটি ছোট থিয়েটারে ‘সহজ মানুষ’ শিরোনামে একটি নতুন নাটক মঞ্চস্থ হয়, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। নাটকটি যদিও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে, তবু বড় মঞ্চে উপস্থাপনের সুযোগ না পেয়ে দর্শক ও শিল্পী উভয়ই হতাশ। প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, প্রযোজনা দলের অভিজ্ঞতার অভাব এবং বৃহৎ মঞ্চে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাব। এই পরিস্থিতি দেশের নাট্যশিল্পের উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
‘সহজ মানুষ’ নাটকটি ২০১৮ সালে রচিত হয় এবং মূল চরিত্রে অভিনয় করেন তরুণ অভিনেতা রাহুল সুলতান। নাটকটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাধারণ মানুষের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। রাহুলের মতে, নাটকটির মূল উদ্দেশ্য হলো ‘সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরা’। তবে, নাটকটি বড় মঞ্চে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা না পেয়ে, প্রযোজনা দলকে ছোট মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়েছে।
নাটকটি উপস্থাপনের পর দর্শক ও সমালোচকরা বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন। এক সমালোচক বলেন, ‘নাটকটির কাহিনী ও অভিনয় সত্যিই চমৎকার, কিন্তু বড় মঞ্চে উপস্থাপনের সুযোগ না পেলে তার প্রভাব সীমিত হয়ে যায়’। অন্যদিকে, রাহুল সুলতান বলেন, ‘আমরা আমাদের দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে চাই, কিন্তু বড় মঞ্চে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা না থাকায় আমরা সীমাবদ্ধতায় পড়েছি’। এই পরিস্থিতি নাট্যশিল্পের উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
সরকার ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় এই সমস্যার সমাধানে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সাংস্কৃতিক প্রকল্পগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো হবে এবং বড় মঞ্চে উপস্থাপনের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হবে’। এছাড়া, ‘সহজ মানুষ’ নাটকটির জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রযোজনা দল আর্থিক সহায়তা পেয়ে বড় মঞ্চে উপস্থাপনের সুযোগ পেতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের নাট্যশিল্পের উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।