মণিপুরের একটি উচ্চবিদ্যালয় গত সপ্তাহে বাংলা ও ইংরেজি দু'টি মাধ্যমের সমন্বয়ে নার্সারি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করেছে। এই পদক্ষেপটি স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তি ও বহুভাষিক শিক্ষার প্রসারকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়া ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সমাপ্ত হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রথম দিনে ১,২০০ টিরও বেশি আবেদনকারী নিবন্ধন করে, বিদ্যালয়ের নতুন নীতি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

মণিপুরের শিক্ষা বিভাগ গত কয়েক বছর ধরে ভাষা ভিত্তিক বিভাজন ও শিক্ষার প্রবেশাধিকারে বৈষম্য দূর করার জন্য নীতি পরিবর্তন করে আসছে। পূর্বে অধিকাংশ সরকারি বিদ্যালয় শুধুমাত্র ইংরেজি বা মণিপুরি মাধ্যমেই শিক্ষা দিত, ফলে বাংলা ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়াতে হতো। এই নতুন ভর্তি নীতি পূর্বের অভাবগুলো পূরণ করে, স্থানীয় বাংলা ভাষাভাষী পরিবারকে তাদের সন্তানকে মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ প্রদান করে এবং একই সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের মাধ্যমে উচ্চতর শিক্ষাগত সুযোগের দ্বারও উন্মুক্ত করে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী রমেশ চৌধুরী জানান, “বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমের সমন্বয় শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে।” স্থানীয় অভিভাবক মিস রোশনি দাসেরাও এই নীতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমাদের সন্তানদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও শিখন ক্ষমতা বাড়াবে।” শিক্ষামন্ত্রীও এই উদ্যোগকে প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন, “বহুভাষিক শিক্ষা আমাদের সমাজের সংহতি ও উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।” ফলে বিদ্যালয়ের ভর্তি তালিকায় পূর্বের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি আবেদনকারী যুক্ত হয়েছে, যা নীতির প্রভাবকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।

শিক্ষা বিভাগ এখন এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য অতিরিক্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা চালু করেছে। আগামী মাসে বাংলা ভাষাভিত্তিক পাঠ্যপুস্তক প্রকাশের পাশাপাশি, ইংরেজি মাধ্যমের জন্য আধুনিক ডিজিটাল লার্নিং টুলসের ব্যবহার বাড়ানো হবে। এছাড়া, বিদ্যালয়গুলোকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে নীতি বাস্তবায়নের গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে মণিপুরের অন্যান্য বিদ্যালয়েও একই ধরণের দ্বিভাষিক ভর্তি ব্যবস্থা প্রসারিত করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বহুভাষিকতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার বৃহত্তর লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।