সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশের অনলাইন ব্যবহারকারী নারীদের প্রায় ৪৬ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিসহায়ক সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ফেসবুক এবং মেসেঞ্জারের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের সহিংসতা সবচেয়ে বেশি ঘটে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে। সক্রিয়ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নারীদের মধ্যে এই হার আরও উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৪ শতাংশে। এই তথ্যটি দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন করে জোরালো ভূমিকা রাখছে, যেখানে প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি অনলাইন জগতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন একটি জরুরি দাবি হিসেবে浮ে ওঠেছে।
গবেষণার পটভূমিতে দেখা যায়, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার দ্রুতগতিতে বাড়ছে, তবে এই বাড়তি ব্যবহারের সাথে সাথে অনলাইন জগতে নারীদের বিরুদ্ধে হুমকি, অপমান, যৌন উত্তেজনা এবং গোপনীয় তথ্য চুরিসহ আট ধরনের প্রযুক্তিসহায়ক সহিংসতাও বেড়েছে। ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে নারীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অসম্মত মন্তব্য, হুমকি দেওয়া এবং অনলাইন জগতে তাদের মানসিক ও সামাজিক অবস্থান নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। এই সহিংসতার কারণে অনেক নারীই অনলাইন থেকে সরে দাঁড়ান বা তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করে ফেলেন, যা তাদের পেশাগত ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এই গবেষণার ফলাফলকে গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং দাবি করছেন, প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেরই সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, অনলাইন সহিংসতা কেবম একটি আইনি বা প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং এটি সমাজের গভীরে বসে থাকা লিঙ্গভেদভাবের একটি প্রতিফলন। জনজীবনে এর প্রভাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে, নারীরা অনলাইনে তাদের মতামত প্রকাশে বাধা পাচ্ছেন এবং অনেক সময় এই সহিংসতার কারণে মানসিক চাপে ভুগছেন। এছাড়াও, অনলাইন জগতে নারীদের বিরুদ্ধে এমন সহিংসতা তাদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত কৃতিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নারী উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গবেষণার এই তথ্যের আলোকে অনলাইন সহিংসতা রোধে নতুন করে আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইন্টারনেট নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিমালায় নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ফোকাস রাখা হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপারেটরদের সাথে সমন্বয় করে সহিংস মন্তব্য ও হুমকি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে, ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়ানোর পাশাপাশি নারীদের মধ্যে অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই সহিংসতা কমানোর চেষ্টা করা হবে, যাতে নারীরা নিরাপদে প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পারেন এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।