ঢাকার নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আট মাসের দীর্ঘ বিরতির পর ১৩২টি সরকারি প্লটের বরাদ্দের লটারি এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। এই প্লটগুলির জন্য মোট ৬৯৬ জন আবেদনকারী নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করে। কর্তৃপক্ষের নতুন উদ্যোগের আওতায় অতিরিক্ত আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে, যাতে প্রত্যাশিত আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা নিশ্চিত করা যায়। এই ঘোষণাটি শহরের বাসিন্দা ও রিয়েল এস্টেট বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে যে, পূর্বে নির্ধারিত লটারি তারিখগুলো পুনরায় স্থগিত হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত দেখা দিয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, লটারি প্রক্রিয়া আগামী মাসের শেষের দিকে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই প্লট বরাদ্দের পেছনে থাকা মূল কারণগুলো মূলত দুইটি ধাপের জটিলতা থেকে উদ্ভূত। প্রথমত, ২০১৯ সালে শুরু হওয়া নগর পুনর্গঠন পরিকল্পনার অধীনে সরকারী জমি বিক্রয়ের নীতি পরিবর্তন করা হয়, যার ফলে পূর্বে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো পুনঃমূল্যায়ন করা বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, কিছু জমির মালিকানা সংক্রান্ত আইনি বিরোধ এবং পরিবেশগত অনুমোদনের দেরি এই লটারি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করেছে। অতএব, পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ে অনুষ্ঠিত লটারি গুলোতে সময়মতো ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ে এবং বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।
আবেদনকারীদের মধ্যে এই দেরি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা গেছে। একাধিক আবেদনকারী গোষ্ঠী সমবেত হয়ে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের সামনে প্রতিবাদ রেলি পরিচালনা করে, যেখানে তারা দ্রুত লটারি সম্পন্ন করার দাবি জানায়। অধিদপ্তরের মুখপাত্র শ্রীমতি রেহানা বেগম বলেন, “আমরা সকল আবেদনকারীর স্বার্থ রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং নতুন আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত বণ্টন নিশ্চিত করব।” স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের মতে, লটারি দেরি হলে সম্পত্তি মূল্যের স্থবিরতা দেখা দেয় এবং বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। সাধারণ জনগণও আশা প্রকাশ করেছে যে, নতুন আবেদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং সময়মতো সম্পন্ন হবে।
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নতুন আবেদন গ্রহণের জন্য অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে এবং আবেদন ফি হ্রাসের মাধ্যমে অধিকাংশ গৃহহীন পরিবারকে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করবে। পাশাপাশি, লটারি পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র ত্রৈমাসিক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সদস্য হিসেবে আইনি বিশেষজ্ঞ, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই কমিটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আবেদনকারীর তালিকা যাচাই করে লটারি শিডিউল চূড়ান্ত করবে বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের দেরি না ঘটাতে, সরকার ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং স্বয়ংক্রিয় লটারি সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও দ্রুততর করার পরিকল্পনা করেছে।