লক্ষ্মীপুরে সারের ডিলার হিসেবে মনোনীত ৫৭ জনের মধ্যে অন্তত ৪৫ জনকে বিএনপি নেতা‑কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মিডিয়ায় তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মন্তব্য করেন। ডিলার হিসেবে নির্বাচিত হওয়া ব্যক্তিরা সরাসরি কৃষকদের সারের সরবরাহে নিয়োজিত হবে, ফলে এই পদে থাকা নেতাদের ক্ষমতা ও প্রভাবের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগের মূল ভিত্তি হল, দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে এই পদগুলোকে রাজনৈতিক সুবিধার হাতিয়ার করা হয়েছে।

সারের ডিলার ব্যবস্থা বাংলাদেশে বহু বছর ধরে চালু রয়েছে; সরকার কৃষকদের সাশ্রয়ী মূল্যে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক ডিলার নির্বাচন করে। তবে অতীতেও ডিলার নির্বাচনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে এসেছে, বিশেষ করে নির্বাচনী মৌসুমে এই পদগুলোকে ভোট সংগ্রহের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। লক্ষ্মীপুরে বিএনপি’র শক্তিশালী উপস্থিতি, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় তার প্রভাব, এই নির্বাচনকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। নির্বাচনের আগে এবং পরে এই ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

বিএনপি নেতা‑কর্মীরা এই অভিযোগের প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তারা সকল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন এবং ডিলার হিসেবে নির্বাচিত হওয়া সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতে। অন্যদিকে, কৃষক সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, ডিলার নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবের ফলে তারা সরবরাহের গুণমান ও দামের ওপর অনিশ্চয়তা অনুভব করছেন। সরকারী দপ্তর থেকে পাওয়া মন্তব্যে বলা হয়েছে, ডিলার নির্বাচন আইনগত মানদণ্ড অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো অনিয়মের প্রমাণ না পেলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। তবে কিছু বিশ্লেষক দাবি করেন, এই ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কৃষকদের ক্ষতি করে এবং বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

বিষয়টি উত্থাপনের পর সরকারী পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অ্যান্টি‑করাপশন কমিশনকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ডিলার তালিকায় কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া, কৃষি মন্ত্রণালয় ডিলার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং তৃতীয় পক্ষের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রবর্তনের পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের অভিযোগ কমাতে নির্বাচনী সময়সূচি ও পার্টি প্রভাবের বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করার জন্য আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করা হবে বলে সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।