রাজধানীর হৃদয়ে অবস্থিত ওসমানী উদ্যান, দীর্ঘ নয়টি বছর বন্ধ থাকার পর ২০ অক্টোবর সকাল থেকে পুনরায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। উদ্যানের প্রবেশদ্বারে টিকিটের মূল্য মাত্র দশ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সকল বয়সের নাগরিককে সুলভে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগের সুযোগ দেবে। এই পদক্ষেপটি শহরের সবুজস্থান সংরক্ষণ ও নাগরিকের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, ফলে মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া গেছে।

ওসমানী উদ্যানের বন্ধের পেছনে ছিল বহু বছর ধরে চলমান পুনর্নির্মাণ কাজ, যা মূলত অবকাঠামো সংস্কার, বৃষ্টিপাতের ক্ষতি মেরামত এবং আধুনিক সেবা সুবিধা যুক্ত করার জন্য পরিকল্পিত ছিল। ২০১৫ সালে উদ্যানের পুরনো কাঠামো অবনতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বন্ধ করা হয়, এরপর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা মিলিত হয়ে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা, পরিকল্পনা পরিবর্তন এবং কোভিড‑১৯ মহামারীর প্রভাবের কারণে কাজটি বহুবার বিলম্বিত হয়, ফলে উদ্যানটি শেষ পর্যন্ত নয় বছর বন্ধই থাকে।

উদ্যানের পুনরায় উন্মোচনের পর, রাজধানীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পরিবেশ সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে ইতিবাচক মন্তব্য পাওয়া গেছে। মন্ত্রিপরিষদের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব উল্লেখ করেছেন, “ওসমানী উদ্যানের পুনরুজ্জীবন শহরের সবুজায়ন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক”। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশাবাদী যে উদ্যানের পুনরায় খোলার ফলে পার্শ্ববর্তী বাণিজ্যিক এলাকা সক্রিয় হবে, আর পরিবারগুলোকে সস্তা মূল্যে বিনোদনমূলক পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিগুলোতে শিশুরা, বয়স্করা এবং দম্পতি সবাই উদ্যানের নতুন রঙিন ফুল, পুকুর এবং হাঁটার পথ উপভোগ করছেন।

অধিকর্তারা উদ্যানের সুষ্ঠু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ তত্ত্বাবধান কমিটি গঠন করেছেন, যা নিয়মিত পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের সংরক্ষণে নজর রাখবে। ভবিষ্যতে উদ্যানের মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পরিবেশ শিক্ষা কর্মশালা এবং স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত ক্যাম্পেইন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে উদ্যানটি শুধুমাত্র বিনোদনই নয়, শিক্ষারও কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এছাড়া, টিকিটের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সুলভ মূল্যে সেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য সরকারী তহবিলের ধারাবাহিক বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা উদ্যানের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে।