বৃহত্তর আর্থিক সংকটের মুখে জুয়েল তিন সন্তানসহ স্ত্রী শাহানাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পায়ে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং ডাক্তারের পরামর্শে অবিলম্বে শল্যচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য উচ্চমূল্যের ওষুধ গ্রহণের প্রয়োজন। জুয়েল জানান, মাত্র দশ দিন আগে পর্যন্ত তিনি দিনে পনেরোটি ওষুধের ডোজ নিতে বাধ্য হচ্ছিলেন, আর এখন চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছেন। ঋণের সুদ হার ২৪ শতাংশের উপরে, যা তার সীমিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; ফলে তিনি জমি বিক্রির টাকায় চিকিৎসা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

এই ধরনের আর্থিক দুঃখের পেছনে রয়েছে দেশের স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোগত ঘাটতি এবং ঋণ বাজারের অনিয়ন্ত্রিত সুদের হার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা খরচে ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা গেছে, আর সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে যথাযথ সুবিধা ও ওষুধের অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে, নগদ প্রবাহের অভাবে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো প্রায়ই উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণ করে, যা ঋণ‑দেনার চক্রে ফাঁদে ফেলে। জুয়েলের মতো বহু পরিবার এই সমস্যার শিকার, যেখানে ঋণ‑সুদ এবং চিকিৎসা ব্যয়ের দ্বৈত চাপ তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষয় করে।

জুয়েল তার পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন, “আমি আর কোনো উপায় দেখছি না, সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে হলে এই ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছি।” তার স্ত্রী শাহানা যোগ করেন, “বাচ্চাদের পড়াশোনার জন্যও টাকা দরকার, আর এখন চিকিৎসা ব্যয় আমাদের সব পরিকল্পনা নষ্ট করে দিয়েছে।” স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও এক এনজিও প্রতিনিধিও জুয়েলের কষ্টের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে, “এমন কেসগুলো আমাদের নীতি‑নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা উচিত, যাতে জরুরি আর্থিক সহায়তা ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়।” সামাজিক মাধ্যমে এই গল্পটি শেয়ার হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে সহানুভূতি ও সমর্থনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারী পদক্ষেপের অভাবই সমস্যার মূল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি “সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা” প্রকল্প চালু করার ঘোষণা দিয়েছে, তবে বাস্তবায়ন ধীরগতিতে চলছে। আর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ঋণদাতাদের সুদের হার সীমাবদ্ধ করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করছে, যা উচ্চ সুদে ঋণগ্রহীতাদের সুরক্ষা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদুপরি, স্থানীয় সরকার স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সাশ্রয়ী ওষুধের সরবরাহে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জুয়েল এবং তার পরিবারকে এই নীতিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন ও জরুরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলে তাদের বর্তমান সংকট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।