গৃহমন্ত্রণালয় আজ ঢাকা শহরের রায়হান পার্কে 'সুস্থ ঘর' প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে সহযোদ্ধা হিসেবে উপস্থিত করে ১০,০০০টি সাশ্রয়ী মূল্যের একক পরিবারিক বাড়ি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল গৃহহীন ও দারিদ্র্যগ্রস্ত পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয় প্রদান করে জীবনমান উন্নত করা, দারিদ্র্য হ্রাস করা এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এই পরিকল্পনা আগামী তিন বছরে মোট ১,৫০,০০০টি বাড়ি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখে, যা দেশের গৃহসংকটের সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশে গৃহহীনতার হার গত দশকে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; সর্বশেষ জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ নিরাপদ বাসস্থানের অভাবে বেঁচে আছে। পূর্বে চালু করা 'সুন্দর বাসা' ও 'আশ্রয়' প্রকল্পগুলো যদিও কিছু পরিবারকে স্বল্পমেয়াদে সহায়তা করেছে, তবু লক্ষ্য অর্জনে ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা, তহবিলের ঘাটতি এবং জমি সংগ্রহে সমস্যার কারণে প্রকল্পের পরিধি সীমিত রয়ে গিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার নতুনভাবে গৃহমন্ত্রণালয় ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত নীতি গঠন করে, যা সাশ্রয়ী মূল্যের নির্মাণ উপকরণ, স্থানীয় শ্রমিকের ব্যবহার এবং স্বচ্ছ তহবিল বরাদ্দের মাধ্যমে প্রকল্পের টেকসইতা নিশ্চিত করবে।
মন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, 'প্রতিটি পরিবারকে নিরাপদ ঘর প্রদান করা মানে তাদের জীবনের নিরাপত্তা ও গর্বের পুনর্নির্মাণ'। প্রকল্পের প্রথম ধাপে নির্বাচিত ১০,০০০ পরিবার থেকে গৃহমালিকদের প্রত্যাশা দেখা যায় যে তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে গৃহঋণমুক্ত হয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করবে। স্থানীয় এনজিও ও সমাজসেবী সংগঠনগুলোও এই উদ্যোগকে প্রশংসা করে, তারা ত্রাণকাজে যুক্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ ও আর্থিক পরামর্শ প্রদান করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, গৃহমালিকানা বাড়ি না থাকলে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা কমে যায়, ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়; তাই এই প্রকল্পের সফলতা দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে প্রকল্পের জন্য ৩৫০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে এবং তা তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে বাস্তবায়ন করবে। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে ৪০ শতাংশ বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু হবে, যেখানে স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণ অনুমোদন দ্রুত করা হবে। তদুপরি, গৃহমন্ত্রণালয় একটি স্বতন্ত্র তদারকি কমিটি গঠন করেছে, যা প্রকল্পের অগ্রগতি, তহবিলের ব্যবহার এবং গুণগত মানের পর্যবেক্ষণ করবে। ভবিষ্যতে সরকার এই মডেলটি অন্যান্য প্রান্তিক অঞ্চলে সম্প্রসারিত করে গৃহসংকটের সমাধানে একটি জাতীয় নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করেছে।