ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ ও ফ্রেন্ডশিপ একাডেমি শীতকালীন প্রশিক্ষণ আয়োজন করেছে, যেখানে তরুণ পেশাজীবীরা উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে হাতে–কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটি ২০ দিনের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক নীতি, টেকসই উন্নয়ন, এবং গ্রামীণ উন্নয়নসহ বিভিন্ন মডিউল অন্তর্ভুক্ত করেছে। অংশগ্রহণকারীরা তত্ত্বগত জ্ঞানকে বাস্তব প্রকল্পে প্রয়োগ করে উন্নয়নমূলক কৌশল নির্ধারণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং নীতি প্রণয়নের দক্ষতা বাড়াতে পারবেন। এই উদ্যোগটি দেশের উন্নয়নশীল পেশাজীবীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

শীতকালীন প্রশিক্ষণের পটভূমি হিসেবে দেখা যায় যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের উন্নয়ন নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষ পেশাজীবীর চাহিদা বেড়েছে। উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ পূর্বে গ্রীষ্মকালীন ও বসন্তকালীন সেমিনার আয়োজন করলেও, এই শীতকালীন প্রোগ্রামটি প্রথমবারের মতো হাতে–কলমে প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষণকে গুরুত্ব দিয়েছে। ফ্রেন্ডশিপ একাডেমি, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সমৃদ্ধ, এই প্রশিক্ষণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কেস স্টাডি ও মডেল প্রকল্প যুক্ত করেছে। ফলে অংশগ্রহণকারীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে গভীর ধারণা পেতে পারবেন।

প্রশিক্ষণ চলাকালীন অংশগ্রহণকারীরা উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও ফ্রেন্ডশিপ একাডেমির বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি পরামর্শ গ্রহণ করেছেন। বিভাগের প্রধান ড. রানা আহমেদ বলেন, “এই শীতকালীন প্রশিক্ষণ আমাদের শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে তাদের অবদান বাড়বে।” অংশগ্রহণকারী মেহেদী সুলতান, যিনি গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করেন, বলেন, “প্রশিক্ষণে শেখা তথ্য বিশ্লেষণ কৌশল ও নীতি প্রণয়ন পদ্ধতি আমার কাজকে আরও কার্যকর করেছে।” এছাড়াও, স্থানীয় সরকার ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

কর্তৃপক্ষের দিক থেকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্রেন্ডশিপ একাডেমি ভবিষ্যতে আরও শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা করেছে। উভয় প্রতিষ্ঠানই আগামী বছরের জন্য ৩০০ জনেরও বেশি পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। পাশাপাশি, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সার্টিফিকেট প্রদান ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ক্ষেত্রের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করার আশা প্রকাশ করা হয়েছে।