দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেয়েছে; প্রয়োজনীয় সব টিকা পাওয়া শিশুর হার ক্রমবর্ধমানভাবে কমছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তুলনায় এখনো সম্পূর্ণ টিকাকরণ প্রাপ্ত শিশুর শতাংশ ৭.২ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৮২.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এই হ্রাসের ফলে টিকাদান প্রোগ্রামের লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং সম্ভাব্য রোগপ্রবাহের ঝুঁকি পুনরায় উন্মোচিত হচ্ছে। বিশেষত, শৈশব কালে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় টিকাগুলোর সম্পূর্ণ গ্রহণ নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের মৌলিক ভিত্তি, তাই এই প্রবণতা নীতিনির্ধারকদের তাত্ক্ষণিক মনোযোগের দাবি রাখে। এছাড়া, এই হ্রাসের প্রভাব গ্রামীণ ও নগর উভয় অঞ্চলে সমানভাবে অনুভূত হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবার সমতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করে তুলছে। সেইসাথে, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর সতর্কতা বার্তা দেশীয় নীতিনির্ধারকদের জন্য এক সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার বিশেষজ্ঞদের একটি সমন্বিত দল গঠন করে কাজ শুরু করেছে। মোট নয়টি দল গঠিত হয়; একটি দল কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও নীতি নির্ধারণের দায়িত্বে, আর বাকি আটটি দল দেশকে আটটি বিভাগে ভাগ করে প্রত্যেক অঞ্চলের টিকাদান কার্যক্রম তদারকি করে। কেন্দ্রীয় দলটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে, ডেটা বিশ্লেষণ, সম্পদ বণ্টন এবং তহবিল ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কৌশলগত দিকগুলো নির্ধারণ করে। অঞ্চলভিত্তিক দলগুলো স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সঙ্গে সমন্বয় করে টিকাদান কেন্দ্রের অবস্থান, কর্মী প্রশিক্ষণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করে। এভাবে, টিকাকরণ হার বৃদ্ধির জন্য লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপের কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব আহমেদ জানান, “সম্পূর্ণ টিকাকরণ হার হ্রাসের মূল কারণগুলোতে তথ্যের ঘাটতি, সরবরাহ শৃঙ্খলের অপ্রতুলতা এবং কিছু অঞ্চলে সচেতনতার অভাব অন্তর্ভুক্ত।” তিনি আরও যোগ করেন, “এখনই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে রুটিন টিকাকরণ প্রোগ্রাম পুনরায় সঠিক পথে ফিরে আসে।” পরিবারিক স্তরে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু পিতামাতা টিকাদান কেন্দ্রের দূরত্ব ও সময়সূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তবে অধিকাংশই সরকারী উদ্যোগে আস্থা রাখেন। স্থানীয় এনজিওগুলোও টিকাকরণ সচেতনতা বাড়াতে মিডিয়া ক্যাম্পেইন চালু করেছে এবং স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গঠন করে গ্রামাঞ্চলে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছে।
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে টিকাদান কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেম প্রয়োগ এবং ডেটা বিশ্লেষণ ভিত্তিক লক্ষ্যভিত্তিক সম্পদ বণ্টনের জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করেছে। আগামী ত্রৈমাসিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টিকাকরণ হার ৯০ শতাংশের উপরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি জাতীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ দল গঠন করবে, যা মাসিক ভিত্তিতে অগ্রগতি রিপোর্ট করবে। পাশাপাশি, টিকাদান সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়াতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার টিকাদান হ্রাসের প্রবণতা উল্টে দিয়ে, শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি টেকসই কাঠামো গড়ে তোলার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।