ঢাকার সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে আজ হাজার হাজার ভক্ত ও সাধারণ মানুষ জড়ো হয়ে প্রার্থনা ও পুষ্পাঞ্জলির আয়োজনের মাধ্যমে মহাসপ্তমী পালন করেছেন। এই ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমানভাবে পালিত হয়, তবে ঢাকার এই আয়োজনটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে কারণ এখানে শতাধিক পুষ্পাঞ্জলি ও প্রার্থনা সেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভক্তরা মসজিদের প্রবেশদ্বারে গাঁথা গাঁথা ফুলের মালা ও মোমবাতি জ্বালিয়ে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই মুহূর্তে মসজিদের গম্বুজের ছায়ায় এক শান্তি ও আধ্যাত্মিকতার পরিবেশ বিরাজ করে।
মহাসপ্তমী হল বাংলা সংস্কৃতির একটি প্রাচীন ঐতিহ্য, যা মূলত শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ও হিন্দু ধর্মের গ্রন্থে উল্লেখিত। এই দিনটি পঞ্চম ও সপ্তম দিনের মিলনে উদযাপিত হয়, যা শ্রীমদ্ভাগবত গীতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক শক্তির দিন। বাংলাদেশে এই দিনটি প্রধানত মন্দির, মসজিদ ও গির্জায় পালন করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে মানুষ গাঁথা গাঁথা পুষ্পাঞ্জলি ও মোমবাতি জ্বালিয়ে ঈশ্বরের প্রতি প্রার্থনা করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই আচার-অনুষ্ঠানটি সামাজিক ও ধর্মীয় সমন্বয়ের প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
মসজিদের প্রধান ইমাম বলেন, “এই মহাসপ্তমী আমাদের সমাজে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা বহন করে। আমরা সকল ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে এই আচার-অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছি।” ভক্তরা জানান, “পুষ্পাঞ্জলি ও প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনের সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পেতে চাই। এই দিনটি আমাদের জন্য এক নতুন আশার সূচনা।” স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, “আমরা এই আয়োজনের জন্য স্বেচ্ছায় কাজ করেছি এবং সবাইকে নিরাপদে প্রার্থনা করার ব্যবস্থা করেছি।”
শহর প্রশাসন ও নিরাপত্তা বিভাগ আজকের আয়োজনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। মসজিদের চারপাশে নিরাপত্তা গার্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগও জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য টিকা ও স্যানিটেশন স্টেশন স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে সরকার এই ধরনের আচার-অনুষ্ঠানকে সমর্থন করার জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। একই সাথে ধর্মীয় সমন্বয় ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।