চীন সরকারী শহরে গত সপ্তাহে ১২ জন বাংলাদেশী নারীকে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল, তবে তাদেরকে মানব পাচার সংস্থার হাতে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নারীদেরকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল এবং আজ পর্যন্ত তাদের অবস্থান ও স্বাস্থ্যের ব্যাপারে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও দেশীয় নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি দেশের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও বিদেশে কাজের সুযোগের প্রতি আস্থা ক্ষয় করে।
পেছনের পটভূমিতে দেখা যায় যে, কিছু অনিয়ন্ত্রিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি উচ্চ বেতন, দ্রুত ভিসা ও সহজ কাজের শর্তের নামে তরুণী নারীদেরকে চীনের উৎপাদন কারখানা, গুদাম ও পরিষেবা খাতে পাঠায়। এ ধরনের এজেন্সি প্রায়শই ভিসা প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে, ভ্রমণ টিকিটের খরচ অগ্রিম সংগ্রহ করে এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদেরকে ঋণদায়িত্বের শিকলে ফেলে। পূর্বে ২০১৯ ও ২০২১ সালে অনুরূপ মামলায় একই রকম পদ্ধতিতে নারীদেরকে চীনের গোপন শ্রম শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে, তবে এইবারের আকার ও নির্যাতনের মাত্রা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
ঘটনার পরপরই পরিবারগুলো ভয় ও রাগের মিশ্রণে সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানায়। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলছেন, “আমরা চীনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করে এই নারীদের অবিলম্বে মুক্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে কাজ করছি।” মানবাধিকার সংস্থা গুলিও চীনের শ্রমিক সুরক্ষা নীতি ও আন্তর্জাতিক মানব পাচার বিরোধী চুক্তির লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। চীনের স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, “আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং অপরাধী সংগঠনকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” এই ঘটনায় দেশের শ্রমিকদের বিদেশে কাজের স্বপ্ন ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে এবং সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে, ভুক্তভোগীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও মানসিক পরামর্শ প্রদান করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনের দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে সকল নারীর রিলোকেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনিয়ন্ত্রিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য কঠোর নিয়মাবলি প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি, শ্রম মন্ত্রণালয় বিদেশে কাজের জন্য আবেদনকারী নাগরিকদের জন্য সচেতনতা কর্মসূচি চালু করবে, যাতে তারা অবৈধ রিক্রুটমেন্টের ফাঁদে না পড়ে। আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে মানব পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক চুক্তি মেনে চলা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধী গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিক আদালতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।