বিশ্বব্যাংক ২০২৪ সালের শেষের দিকে গৃহস্থালী পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্কতা জানিয়েছে। তেলের সরবরাহে ৫.২ শতাংশ এবং ব্যবহার্যে ২.৫ শতাংশ হ্রাসের পূর্বাভাসের সঙ্গে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তেল মূল্যের ওঠানামা সরাসরি জ্বালানি, পরিবহন ও উৎপাদন খাতের খরচে প্রভাব ফেলবে, ফলে খাদ্য ও মৌলিক পণ্যের মূল্যে শৃঙ্খলাবদ্ধ বৃদ্ধি দেখা যাবে। দেশের মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্য ৬ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, যা গৃহস্থালী ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। এই পরিস্থিতি নীতি নির্ধারকদের জন্য তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসের পেছনে গ্লোবাল তেল বাজারের সরবরাহ ঘাটতি ও চাহিদা হ্রাসের সমন্বয় রয়েছে। কোভিড‑১৯ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন সীমিত করেছে, আর শক্তি সাশ্রয়ের প্রবণতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তদুপরি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও শিপিং খরচের বৃদ্ধি তেল মূল্যের অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে। বাংলাদেশের তেলের ওপর নির্ভরতা ৭০ শতাংশের বেশি, ফলে আন্তর্জাতিক তেল মূল্যের ওঠানামা সরাসরি দেশের মুদ্রা ও বাণিজ্য ঘাটতিতে প্রভাব ফেলে। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে তেল মূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেলে মুদ্রাস্ফীতি তীব্রতর হয়েছে, যা বর্তমান পূর্বাভাসকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিশ্বব্যাংকের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, “বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের হ্রাস এবং চাহিদার পতন মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে, বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।” অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এ বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছেন, “সরকারি নীতি সমন্বয় ও মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তৎকালীন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” ভোক্তা অধিকার সংস্থা এবং ব্যবসায়িক সমিতি উভয়ই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে; ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে, আর ব্যবসায়িক খাতে উৎপাদন খরচ বাড়বে। এদিকে, কিছু বিশ্লেষক যুক্তি দিয়েছেন, তেল মূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে মূল্যবৃদ্ধি সীমিত করা সম্ভব হবে।
সরকার ইতিমধ্যে মূল্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে এবং তেল আমদানি পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। মুদ্রা নীতি সমন্বয় করে সুদের হার সাময়িকভাবে সমন্বয় করা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা কমাতে কাস্টমস শুল্কে ছাড় প্রদান করা পরিকল্পনা করা হয়েছে। তদুপরি, জ্বালানি সেক্টরে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করা হবে, যাতে তেল মূল্যের ওঠানামা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, সরকার দীর্ঘমেয়াদে তেল নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা মূল্য স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।