লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা সীমান্তে গত রাত্রি থেকে সারা রাত জুড়ে শত শত টর্চ, মুঠোফোনের আলো এবং বিজিবি ড্রোনের সাহায্যে তল্লাশি চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও বন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত দলটি পূর্বের একাধিক বাঘের দৃষ্টিপাতের পর পুনরায় ঐ অঞ্চলে বন্য প্রাণীর উপস্থিতি সন্দেহ করে এই অভিযান শুরু করে। তীব্র আলো এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার সত্ত্বেও, রাতের অন্ধকারে ঘোরে এমন কোনো বাঘের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই অপ্রত্যাশিত ফলাফল স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

হাতীবান্ধা সীমান্তের বনভূমি পূর্বে বাঘ, চিতা ও অন্যান্য মধুকরী প্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানববসতি বিস্তার, কৃষি জমি বৃদ্ধি এবং অবৈধ শিকারের ফলে এই প্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান সংকুচিত হয়েছে। পূর্বে ২০১৯ ও ২০২১ সালে একই অঞ্চলে বাঘের দৃষ্টিপাতের প্রতিবেদন পাওয়া গিয়েছিল, যা সীমান্ত পারাপার এবং শিকারের সম্ভাবনা নির্দেশ করেছিল। এছাড়া, হিমালয়ীয় বন্যপ্রাণীর অপ্রত্যাশিত স্থানান্তরও গবেষকদের উদ্বিগ্ন করেছে, কারণ পরিবেশগত পরিবর্তন ও খাদ্যশূন্যতা প্রাণীদের নতুন অঞ্চল অনুসন্ধানে প্ররোচিত করে।

বন ও বন্যপ্রাণী অধিদপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা শ্রীমতি রেহানা বেগম উল্লেখ করেন, “বাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও, আমরা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছি এবং সকল প্রমাণ সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত।” স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “রাতের অন্ধকারে অদ্ভুত গর্জন শোনার পর আমরা উদ্বিগ্ন, তবে কোনো ক্ষতি না হলে ভালোই হবে।” পরিবেশবিদ ড. সুমন চৌধুরী যুক্তি দেন, “বাঘের বাসস্থান রক্ষা না করলে মানব-প্রাণী সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে।” পুলিশ কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, “অবৈধ শিকারের সন্দেহে আমরা অতিরিক্ত গশ্বর চালিয়ে যাচ্ছি।”

অধিদপ্তর এখনো পর্যন্ত ড্রোনের রেকর্ডেড ভিডিও ও টর্চের ছবি বিশ্লেষণ করে বাঘের সম্ভাব্য চলাচল পথ চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, ভারতের বন বিভাগ ও সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে। ভবিষ্যতে রাতের তল্লাশির জন্য অতিরিক্ত ইনফ্রারেড ক্যামেরা ও সাউন্ড ট্র্যাপ স্থাপন করা হবে এবং স্থানীয় জনগণকে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করতে সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হবে। এই ধারাবাহিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাঘের নিরাপদ পুনরায় উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং মানব-প্রাণী সংঘাতের ঝুঁকি কমানো লক্ষ্য করা হয়েছে।