গুলশান এলাকায় কিংফিশার রেস্তোরাঁয় গত রাত্রি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে, যেখানে বিজ্ঞাপন ফलकের পেছনে গোপন গুদাম থেকে বিশাল পরিমাণ মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের পরিমাণ দেশের সর্বোচ্চ স্তরের বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং এটি মদবিক্রয় সংক্রান্ত অবৈধ কার্যক্রমের একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিযানের সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে সিকিউরিটি রেসকিউ ব্যাটালিয়ন সহযোগিতা করা হয়, তবে পুলিশ জানায় যে এই ঘটনার সঙ্গে কোনো আইনি মামলা দাখিল করা হয়নি।

কিংফিশার রেস্তোরাঁটি গুলশানের অন্যতম জনপ্রিয় খাবার কেন্দ্র, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহরের উচ্চমানের রেস্টুরেন্টে অবৈধ মদবিক্রয়ের অভিযোগ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বিলাসবহুল হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে অপ্রকাশিত গুদাম স্থাপন করে অ্যালকোহলিক পানীয়ের সরবরাহ চ্যানেল গোপন করা হয়ে থাকে, যা কর ফাঁকি ও পাবলিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। পূর্বে একই রকম অভিযানে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচটি গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে এবং শত শত লিটারের মদ জব্দ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গুলশানের রেস্তোরাঁটি লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে, কারণ স্থানীয় তথ্য সূত্র অনুযায়ী এখানে বড় পরিমাণে বিদেশি বিয়ার এবং দেশীয় মদ সংরক্ষণ করা হতো।

অভিযানের পর রেস্তোরাঁর মালিক ও ব্যবস্থাপনা দল আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি জানায় এবং জব্দকৃত পণ্যের মালিকানা সম্পর্কে স্পষ্টতা দাবি করে। গুলশান থানা প্রধানের মতে, এই ধরণের গোপন গুদাম শহরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা হুমকির মুখে ফেলতে পারে এবং জনসাধারণের মদ্যপান সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি এই ঘটনার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আইনসঙ্গত মদবিক্রয়কে উৎসাহিত করার জন্য সরকারী নীতি সমর্থন করার আহ্বান জানায়। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মদবিক্রয় সংক্রান্ত অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব গড়ে উঠেছে।

পুলিশ এখন পর্যন্ত জব্দকৃত মদ ও বিয়ারের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর ও শুল্ক বিভাগে হস্তান্তর করেছে এবং গুদামের মালিকানার ওপর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিশেষ দল গঠন করে শহরের অন্যান্য সম্ভাব্য গোপন গুদাম সনাক্তকরণে নজরদারি বাড়াবে। সরকারী নিরাপত্তা সংস্থা ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ গুদাম নির্মাণ রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রণয়ন এবং রেস্টুরেন্ট লাইসেন্সের নিয়মিত পর্যালোচনা নিশ্চিত করবে। শেষ পর্যন্ত, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং মদবিক্রয় সংক্রান্ত অপরাধের শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।