বেঙ্গলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা গত সপ্তাহে সার্বিয়ার ঐতিহাসিক শহর নোভি সাদের এক প্রাচীন গথিক গির্জা পুনরুদ্ধার প্রকল্পে অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসা অর্জন করেছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত গির্জার মূল কাঠামো ধ্বংসের কাছাকাছি ছিল, তবে তরুণ প্রকৌশলী ও স্থাপত্যবিদদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রাচীন শিলালিপি ও ভাস্কর্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। এই উদ্যোগের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় ভূমিকা প্রমাণ করা।
প্রকল্পের পটভূমি অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, ২০১৯ সালে সার্বিয়ায় তীব্র ভূমিকম্পের ফলে নোভি সাদের গথিক গির্জা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্থানীয় সংরক্ষণ সংস্থা যথাযথ তহবিলের অভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারছিল না। তদুপরি, বাংলাদেশে ঐতিহাসিক সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞ একাডেমিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির অংশ হিসেবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সার্বিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা তৈরি করে, আধুনিক কাঠামোগত বিশ্লেষণ ও ঐতিহ্যবাহী নির্মাণ পদ্ধতি একত্রিত করে কাজ শুরু করে।
প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মুখে গর্বের ছাপ স্পষ্ট। তারা উল্লেখ করেছে, “প্রাচীন গির্জার প্রতিটি ইট পুনরায় স্থাপন করা মানে ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা।” সার্বিয়ার সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রধানও এই উদ্যোগকে “সাংস্কৃতিক বন্ধুত্বের সেতু” বলে প্রশংসা করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আশার আলো হিসেবে উল্লেখ করেন। গির্জা পুনরুদ্ধার শেষে স্থানীয় ব্যবসা, বিশেষত হস্তশিল্প ও পর্যটন সেবা, উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা সরাসরি অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।
অধিকর্তারা এখন গির্জার পুনরুদ্ধারকে এক দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার পরিকল্পনার সূচনা হিসেবে দেখছেন। সার্বিয়ার সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে এবং তহবিল সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। পাশাপাশি, বাংলাদেশে এই সফল মডেলটি অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি সংরক্ষণে প্রয়োগের জন্য এক উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা শক্তিশালী করবে।