গুগলের বিজ্ঞাপন আয় প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় শেয়ার বাজারে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কোম্পানির মোট বাজারমূল্য প্রায় পাঁচশো বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়ে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (কেবি) ভিত্তিক নতুন বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মের উত্থান গুগলের ঐতিহ্যবাহী বিজ্ঞাপন মডেলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দিয়েছে। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রভাব আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে স্পষ্ট, যেখানে গুগলের শেয়ার মূল্যের হ্রাস অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থার শেয়ারেও অনুকরণীয় প্রভাব ফেলেছে।

কেবি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং নতুন প্রতিযোগীদের প্রবেশ গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসার পটভূমিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত কয়েক বছরে গুগল বিজ্ঞাপন আয়ের মাধ্যমে প্রধান আয় উৎস হিসেবে কাজ করলেও, চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফটের কেবি সেবা এবং অন্যান্য উদীয়মান প্ল্যাটফর্মের উদ্ভব বিজ্ঞাপনদাতাদের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি, বিজ্ঞাপনদাতারা কেবি চালিত লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন সমাধানকে অধিক কার্যকরী বলে বিবেচনা করে তাদের বাজেট পুনর্বিন্যাসের দিকে ঝুঁকেছে। এই পরিবর্তন গুগলের ঐতিহ্যবাহী বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের আয় হ্রাসের সরাসরি কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা চিহ্নিত করেছেন।

গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, “কেবি প্রযুক্তি আমাদের ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আয় হ্রাসের ঝুঁকি স্বীকার করতে হবে।” আর্থিক বিশ্লেষকরা গুগলের শেয়ার মূল্যের হ্রাসকে অস্থায়ী বাজার সংশোধন হিসেবে ব্যাখ্যা করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে কেবি-চালিত বিজ্ঞাপন মডেলকে গ্রহণ না করলে কোম্পানির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। দেশীয় বিজ্ঞাপনদাতারা, বিশেষ করে বাংলাদেশের ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থাগুলি, কেবি ভিত্তিক বিজ্ঞাপন সেবার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে, যা গুগলের বিজ্ঞাপন আয়কে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

গুগল এখন কেবি প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে আয় পুনরুদ্ধার এবং নতুন রাজস্ব প্রবাহ গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কোম্পানি কেবি-চালিত বিজ্ঞাপন সমাধান উন্নয়ন, ডেটা বিশ্লেষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মের আধুনিকীকরণে তহবিল বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি, ব্যয় হ্রাসের জন্য কিছু অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের সমাপ্তি এবং কর্মীসংখ্যা হ্রাসের পরিকল্পনা চালু করেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধানে গুগল কেবি ব্যবহার সংক্রান্ত নৈতিক নীতি প্রণয়ন এবং ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার জন্য নতুন নির্দেশিকা তৈরি করছে। ভবিষ্যতে কেবি-চালিত বিজ্ঞাপন বাজারের পুনরুজ্জীবন গুগলের বাজারমূল্য পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।