গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের জাতীয় চার্চ পরিষদের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানটি জাতীয় চার্চ পরিষদের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে দেশীয় ও বিদেশীয় বহু অতিথি, বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থার নেতৃবৃন্দ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সকাল ৯ টায় শুরু হয়ে দুই ঘণ্টা ধরে চলেছে, যেখানে ধর্মীয় সঙ্গীত, প্রার্থনা ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই উদযাপনটি দেশের ধর্মীয় ঐক্য ও বহুমুখী সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে এবং জাতীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।

জাতীয় চার্চ পরিষদ ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর ধর্মীয় সংহতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সংস্থা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কাজের সমন্বয় সাধন করে আসছে এবং দেশের অন্যান্য ধর্মীয় সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়মূলক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। গত সাত দশকে পরিষদটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য বিমোচনায় বহু প্রকল্প চালু করেছে, যার মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন অন্তর্ভুক্ত। এই পটভূমি বিবেচনা করে ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনটি সংস্থার দীর্ঘায়ু ও অবদানকে স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

উদযাপনে উপস্থিত ধর্মীয় নেতারা সংস্থার অবদানের প্রশংসা করে একাধিক বক্তব্য প্রদান করেন। জাতীয় চার্চ পরিষদের সভাপতি ড. রাহুল চৌধুরী বলেন, ‘এই ত্রিশপঞ্চাশ বছর আমাদের সংস্থার ধারাবাহিকতা ও সমাজসেবার প্রতিফলন, এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি’। বিদেশি অতিথি, যুক্তরাজ্যের ক্যাথলিক চার্চের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি বাংলাদেশের ধর্মীয় সহনশীলতার প্রশংসা করে বলেন, ‘এখানে ধর্মীয় সংহতি ও পারস্পরিক সম্মান একটি মডেল হিসেবে কাজ করে’। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই অনুষ্ঠানটি সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় সহাবস্থানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব জাগিয়ে তুলেছে।

উদযাপনের পর সরকারী কর্তৃপক্ষ সংস্থার কার্যক্রমকে সমর্থন জানিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবাবৃন্দ উল্লেখ করেছেন, ‘জাতীয় চার্চ পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণের প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে’। এছাড়াও, সরকার ধর্মীয় সংহতি বাড়াতে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের ফ্রেমওয়ার্ককে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে জাতীয় চার্চ পরিষদের মতো সংস্থাগুলি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। এই পদক্ষেপগুলো সংস্থার ৭৫ বছর পূর্তিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে স্থাপন করবে।