মহারাষ্ট্রের সাইবার পুলিশ গতকাল হানি সিং নামের ভারতীয় গায়িকা ও গীতিকারকে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গায়িকাটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে গাড়ির ভেতরে যৌন সম্পর্কের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে। ভিডিওটি দ্রুতই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু ব্যবহারকারী তা অবমাননাকর ও অনৈতিক বলে সমালোচনা করে। সাইবার পুলিশ জানায়, মন্তব্যগুলো যৌন হয়রানি ও নৈতিক অবনতি ঘটাতে পারে বলে তা আইনের অধীনে অপরাধের শ্রেণিতে পড়ে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করেও জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।

হানি সিং গত বছর থেকে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত মঞ্চে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন এবং তার গানগুলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে উন্মুক্তভাবে মত প্রকাশ করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে, গত মাসে প্রকাশিত একটি গানে তিনি নারী স্বাধীনতা ও যৌন স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করে সমালোচনার মুখে পড়েন। এই প্রেক্ষাপটে, গাড়ির মধ্যে যৌন সম্পর্কের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যকে নৈতিক অবহেলা ও যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য করা হয়। ভারতীয় সাইবার অপরাধ আইন অনুযায়ী, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আপত্তিকর বিষয়বস্তু প্রচার করা অপরাধের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

সাইবার পুলিশের মুখপাত্রের মতে, হানি সিংকে প্রশ্ন করার সময় তিনি মন্তব্যের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হন। গায়িকার আইনজীবী দল দাবি করেছে যে মন্তব্যগুলো শিল্পের সৃজনশীল প্রকাশের অংশ এবং কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নেই। তবে জনমত গায়িকার প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে; কিছু ভক্ত তার স্বতন্ত্রতা ও সাহসের প্রশংসা করে, অন্যদিকে অধিকাংশ নাগরিক মন্তব্যকে অনুপযুক্ত ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করে। সামাজিক মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ #হানি_সিং_বিচার দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

অধিকর্তারা বর্তমানে হানি সিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হবে কিনা তা নির্ধারণের জন্য প্রমাণ বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে। সাইবার পুলিশ জানিয়েছে, যদি প্রমাণে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে মন্তব্যগুলো যৌন হয়রানি বা নৈতিক অবনতি ঘটাতে ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে, তবে গায়িকাকে আইনি দায়বদ্ধ করা হবে এবং শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা থাকবে। একই সঙ্গে, সরকার অনলাইন নৈতিকতা ও সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানো যায়। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও আলোচিত হয়েছে এবং ভারত-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।