পূর্ণাঙ্ক ছুটির শেষ দিনে খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন পার্কে বিশাল ভিড় জমে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ থেকে আগত পর্যটকরা পাহাড়, নদী, ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছেন। পার্কের প্রবেশদ্বারে গাড়ি ও বাসের দীর্ঘ সারি, পায়ে হেঁটে আসা ভ্রমণকারীরাও লক্ষণীয়। কিছু পর্যটক ক্যামেরা হাতে ছবি তোলায় মগ্ন, আবার কেউ বন্ধু ও স্বজনের সঙ্গে বসে আড্ডা উপভোগ করছেন। এই ভিড়ের পরিমাণ পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসা ও সেবা খাতের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সকালবেলা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পার্কের বিভিন্ন স্থানে পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন, এবং স্থানীয় গাইডদের চাহিদা বেড়েছে। বিকেলের সময়ে পার্কের খাবার স্টলগুলোতে স্থানীয় খাবারের চাহিদা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় কৃষক ও বিক্রেতাদের আয় বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়া, পার্কের নিরাপত্তা কর্মীরা অতিরিক্ত শিফটে কাজ করছেন।

খাগড়াছড়ি জেলা ঐতিহাসিকভাবে পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছে। ২০১৯ সালে পার্কের পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে রোড, সাইনেজ, শৌচাগার এবং তথ্যকেন্দ্রের মানোন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া, হাইকিং ট্রেইল ও জলপথের রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। পূর্বে সীমিত পর্যটক স্রোত থাকলেও, এখন প্রতি বছর লক্ষাধিক দর্শনার্থী এই অঞ্চলে আসছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় পর্যটন বিভাগ প্রধানের মতে, এই ছুটিতে আগত পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকরা উচ্চ আয় রিপোর্ট করেছেন; কিছু রেস্টুরেন্টে খাবারের চাহিদা দ্বিগুণে পৌঁছেছে। এক পর্যটক জানান, 'খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক দৃশ্য ও শান্ত পরিবেশে বিশ্রাম নেওয়া আমার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা'। অন্যদিকে, পরিবেশ সংরক্ষণ সমিতির প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত ভিড়ের ফলে পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশে চাপ বাড়ার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দাবি করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যটক influx-কে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, এটি তাদের জীবিকা উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

অধিকাংশ নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা দায়িত্বে থাকা বিভাগগুলো অতিরিক্ত গাড়ি পার্কিং এলাকা তৈরি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন এবং জরুরি সেবা টিমের মোতায়েন করেছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় পার্কে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ দল গঠন করে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চালু করেছে। ভবিষ্যতে, পর্যটন বিভাগ টেকসই পর্যটন নীতি প্রণয়ন করে পার্কের পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, নতুন তথ্যকেন্দ্র ও গাইড প্রশিক্ষণ কর্মশালা চালু করে পর্যটকদের সঠিক তথ্য ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদে খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পকে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।