দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গঠিত ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ গতকাল সন্ধ্যায় তীব্রতা হারিয়ে দুর্বল অবস্থায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অর্ণবের গতি এখন ১৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা, কেন্দ্রের বায়ু গতি ৯০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা, যা পূর্বের ১৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট ও রংপুরের কিছু অংশে হালকা বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বৃষ্টির তীব্রতা স্থানীয়ভাবে পরিবর্তিত হতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বন্যা ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অর্ণবের উৎপত্তি ২৮ আগস্টের রাতে দক্ষিণ ভারতীয় উপকূলে দেখা গিয়েছিল, এরপর দ্রুত উত্তরের দিকে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে। প্রথমে এটি তীব্র বায়ু গতি ও নিম্নচাপের সঙ্গে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেয়, যা পূর্বে ‘সৌরভ’ ও ‘বিপ্লব’ ঘূর্ণিঝড়ের মতোই তীব্রতা অর্জন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে সমুদ্রের তাপমাত্রা হ্রাস এবং বাতাসের দিক পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি হ্রাস পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম সমুদ্রের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হ্রাস এবং উচ্চবায়ু প্রবাহের পরিবর্তন ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা হ্রাসের প্রধান কারণ।

বাংলাদেশের মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় তৎপরতা প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের আবহাওয়া ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বলেছেন, “অর্ণবের দুর্বলতা সত্ত্বেও, বৃষ্টির ফলে সড়ক জ্যাম, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও কৃষি ক্ষতি হতে পারে; তাই জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।” জেলা প্রশাসকগণ পূর্বাভাসিত বৃষ্টিপাতের জন্য জরুরি শিবির স্থাপন, বন্যা সতর্কতা সিস্টেম চালু এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা পূর্বে ঘূর্ণিঝড়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে বাড়ি-গৃহের জানালা সুরক্ষিত করা, গাছের ডাল কেটে ফেলা এবং নিকটস্থ উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অধিকাংশ জেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো বড় ক্ষতি রিপোর্ট না করলেও, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ভবিষ্যৎ কয়েক দিনের জন্য সতর্কতা অব্যাহত রাখবে। বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়লে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শিবির স্থাপন, রেলওয়ে ও সড়ক পরিষেবা পুনরায় চালু করা এবং কৃষকদের ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করা হবে। এছাড়া, আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সময়মতো আপডেট প্রদান করবে এবং জনগণকে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক থেকে রক্ষা করবে। দীর্ঘমেয়াদে, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস ও প্রস্তুতি ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকার গৃহীত করেছে।