সরকারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার একটি নতুন আর্থিক সহায়তা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার মাধ্যমে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এককালীন চিকিৎসা অনুদান প্রদান করা হবে। এই অনুদানটি দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্যান্য অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে গুরুতরভাবে আহত অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে লক্ষ্য করা হয়েছে। সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান প্রদান করা হবে, যা শিক্ষার্থীর পরিবারকে আর্থিক চাপে থেকে মুক্তি দিতে পারে এবং তাদের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।

পূর্বে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের ওপর ঘটিত দুর্ঘটনা ও রোগের ফলে চিকিৎসা ব্যয়ের ভার বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য হাসপাতালের খরচ প্রায়শই শিক্ষার ধারাবাহিকতা নষ্ট করে দিত। এই ঘাটতি দূর করতে সরকার বহু বছর ধরে নীতি প্রণয়ন ও তহবিল সংগ্রহের কাজ চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যার সুপারিশের ভিত্তিতে এই এককালীন অনুদান পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।

প্রকল্পের ঘোষণার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মাহবুব হুদা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উভয়ই এই উদ্যোগের প্রশংসা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, “এই অনুদানটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষা করার পাশাপাশি পরিবারকে আর্থিক দায় থেকে রক্ষা করবে।” শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণও এই নীতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “দুর্ঘটনা ঘটলে চিকিৎসা ব্যয় আমাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াত, এখন এই সহায়তা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।” স্থানীয় এনজিওগুলোও পরিকল্পনাটিকে সমর্থন করে বলেছে, “সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এ ধরনের নীতি অপরিহার্য।”

অনুদান পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব বিদ্যালয় বা কলেজের প্রধানকে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে; প্রধানগণ তা যাচাই করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে আপলোড করবেন। আবেদনপত্রে শিক্ষার্থীর আয়-ব্যয়ের প্রমাণ, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং সর্বশেষ জিপিএ স্লিপ সংযুক্ত করতে হবে। পর্যালোচনা শেষে মূল্যায়ন কমিটি মেধা, আর্থিক অবস্থা এবং চিকিৎসার জরুরিতা বিবেচনা করে অনুদান প্রদান করবে। অনুমোদিত শিক্ষার্থীরা দুই মাসের মধ্যে ব্যাংক ট্রান্সফার মাধ্যমে অর্থ পাবে, এবং ভবিষ্যতে এই পরিকল্পনা ধারাবাহিকভাবে চালু রাখতে তহবিলের নিয়মিত বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে।