চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য ডক্টর মোহাম্মদ রশিদুল ইসলাম ১২ ঘণ্টা ধরে নিজের দপ্তরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন, একই সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। উপাচার্যকে দপ্তরে আটকে রাখার কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতি বিরোধী গোষ্ঠীর প্রতিবাদ উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও স্থানীয় মিডিয়া তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে, কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। এই অনন্য ঘটনা দেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রের স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর নতুন আলো ফেলেছে। অবধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি টিম এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে, তবে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্যকে মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়। এই সময়ে উপাচার্যকে মৌলিক খাবার ও পানীয় সরবরাহের জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়।
ডক্টর রশিদুল ইসলামের উপাচার্য পদে নিয়োগের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী উপাচার্য ড. সাইফুল আলমের অকাল অবসরের পর একটি স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া চালানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্বাচনী কমিটি এবং শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর মধ্যে প্রস্তাবিত প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। কিছু গোষ্ঠী দাবি করে যে নতুন নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন ও বিরোধের প্রেক্ষাপটে। অতীতেও চুয়েটের শাসন কাঠামোতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসা সত্ত্বেও, এইবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
উপাচার্য রশিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য এখানে আছি; অবরোধের সময় কোনো হুমকি বা শারীরিক প্রয়োগের সম্মুখীন হইনি, তবে মৌলিক সেবার অভাব আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে।” শিক্ষার্থী ইউনিয়ন সভাপতি রাহুল আহমেদ উল্লেখ করেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত; অবরোধের ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” চুয়েটের শিক্ষক সমিতি প্রধান ড. ফারহানা বেগম যোগ দেন, “প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া ছাড়া এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।” জাতীয় পর্যায়ের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের লঙ্ঘন” বলে সমালোচনা করেন এবং দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস বাংলা’ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি করে।
চুয়েটের গৃহ নিরাপত্তা বিভাগ এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে তদারকি বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটির উপর একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার সদস্য হিসেবে শিক্ষাবিদ, আইনি বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তদুপরি, মন্ত্রণালয় উপাচার্যকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদান করে, এবং ভবিষ্যতে এমন অনিরাপদ পরিস্থিতি রোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো শিক্ষার পরিবেশের স্বাভাবিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।