বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাংলা সংবাদ সংস্থা বা বাসস) এর পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে আবদুল হাই শিকদারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তিনি দেশের তথ্য ও যোগাযোগ খাতের অন্যতম সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। এই নিয়োগের মাধ্যমে বাসস-এর শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রবাহে নতুন দিকনির্দেশনা ও গতিশীলতা আনার আশা করা হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং দ্রুততর তথ্য বিতরণের ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলা সংবাদ সংস্থা দেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনাসমূহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রকাশের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস। গত কয়েক বছর ধরে বাসস-এর কার্যক্রমের মান উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন চেয়ারম্যান আবদুল হাই শিকদারের পূর্বের কর্মজীবনে তথ্য ও যোগাযোগ খাতে অর্জন করা অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা এই প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে সংবাদ মাধ্যমের পরিচালনায় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা বাসস-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহল ও সাংবাদিকদের মধ্যে এই নিয়োগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, বাসস-এর নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের গতি আরও দ্রুত হবে এবং তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনসাধারণের তথ্যের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রদান এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মধ্যে আশার আলো দেখা দেওয়া হয়েছে যে, পেশাগত দক্ষতা এবং নৈতিক মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশের নীতিমালা আরও শক্তিশালী করা হবে। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করে দেশের ছবি বিশ্বমঞ্চে সঠিকভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর বাসস-এর কার্যক্রমের মান উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ডিজিটাল মাধ্যমে সংবাদ বিতরণের গতি বাড়ানো এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্য প্রকাশের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাসস-এর কার্যক্রম স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ রাখা হবে, যাতে জনসাধারণ সঠিক তথ্য পায়। নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাসস দেশের তথ্য ও যোগাযোগ খাতের একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্যে কাজ করবে। এই পদে দায়িত্বভার গ্রহণের মাধ্যমে আবদুল হাই শিকদার দেশের সংবাদ মাধ্যমের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পেয়েছেন, যা দেশের তথ্য সচেতন জনগোষ্ঠীর জন্য উপকারী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।