কুমিল্লা শহরের একটি ব্যস্ততম মহাসড়কে ভোরে ঘটেছে ভয়ংকর সড়ক দুর্ঘটনা। সকাল সাতটার দিকে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী কুমিল্লাগামী বাসের চাপায় এক স্বামী-স্ত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কোনো গুরুতর ক্ষতি নেই, তবে নিহতদের পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করছিল এবং চালক কোনোভাবেই ব্রেক কমানো বা গাড়ি থামাতে পারেননি, ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে ব্যর্থ হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত স্বামী-স্ত্রী দুইজনই স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন। তারা সকালে নিয়মিত কর্মস্থল বা বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। মহাসড়কের নির্দিষ্ট স্থানে কোনো পায়ের চলাচলের জন্য নিরাপদ সেতু বা ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় তারা সরাসরি রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এই অংশটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনা-প্রবণ হিসেবে পরিচিত, তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, এই অংশে গতিরোধক বাধা বা সতর্কবার্তা দেওয়া উচিত ছিল, যা না থাকায় এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরবর্তীতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দলও উপস্থিত হয়। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাঁদতে কাঁদতে দায়ী চালককে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় জনগণ এই দুর্ঘটনাকে সড়ক নিরাপত্তার অভাবের ফলাফল হিসেবে চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করছেন, এমন দুর্ঘটনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে হবে, নইলে ভবিষ্যতে আরও মানুষ প্রাণ হারাবে।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত বাসটি জব্দ করে এবং চালককে গ্রেপ্তার করেছে। মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নতুন করে পরিকল্পনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগ করা জরুরি। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও যানবাহন পরিচালনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যৌথভাবে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।