ঢাকার বর্ধিত এলাকায় ডেঙ্গু জ্বর রোগের প্রকোপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় জনগণকে সচেতন হওয়ার জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এর প্রশাসক। তিনি জানিয়েছেন, সরকারি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের পক্ষ থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা কার্যকরভাবে ফলপ্রসু হতে চাইলে নাগরিকদের নিজেরাই পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন এলাকায় রোগী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যবিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে ঢাকার আবহাওয়া অস্বাভাবিকভাবে বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গু জ্বরের ভেক্টর বা মশার প্রজনন ক্ষমতা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, নির্মাণাধীন ভবন এবং পাহাড়ি জলাশয়ে মশার ডিম পাড়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যবিভাগের তথ্যমতে, বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে এবং শীতের শুরুতে ডেঙ্গু জ্বরের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়ে মশার প্রজনন দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়, যা রোগের বিস্তারকে আরও তীব্র করে তোলে। তাই এই সময়ে পরিবেশগত সতর্কতা ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু জ্বরের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে, যা অনেকেই উপেক্ষা করেন। ফলে রোগটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছালে চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে। জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের আশেপাশে বেশ কয়েকজন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন, যা তাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত মশা দমন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার দাবি জানিয়েছেন এবং নিজেদের পক্ষ থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশা দমন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী সমাধান হিসেবে শহরের জলাবদ্ধতা দূর করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে, বাড়ির চারপাশে পানি জমতে দেবেন না, পুরনো টায়ার ও প্লাস্টিকের বোতল ফেলে রাখবেন না এবং প্রয়োজনে মশারি ব্যবহার করবেন। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে শীঘ্রই ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং স্বাভাবিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ফিরে আসবে।