ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১টি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এই বিশৃঙ্খলার ফলে প্রায় ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়াগত অসুবিধা এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে এই বড় পরিসরের ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং অনেকেরই পরবর্তী ফ্লাইটে বুকিং নিশ্চিত করা যায়নি, যা তাদের যাত্রাপথে গুরুতর অসুবিধা সৃষ্টি করেছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই ফ্লাইট বাতিলের ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়ায় বিমান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও কিছু বিমানের ইঞ্জিনে সামান্য ত্রুটি পাওয়া গেলেও সেগুলো দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হয়নি, ফলে ফ্লাইটগুলো স্থগিত রাখতে হয়েছে। বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যাত্রীদের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় বেড়ে যাওয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
যাত্রীরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরের বিভিন্ন প্রান্তে হাহাকার করছেন। অনেক যাত্রী জানান, তাদের পুরো দিনের প্রস্তুতি নষ্ট হয়ে গেছে এবং ব্যবসায়িক মিটিং বা জরুরি কাজে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যাত্রীদেরকে খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা হলেও তাদের মনোযোগ আকর্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং যাত্রীদের প্রতিনিধিরা কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মানসিক চাপ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি অসীম।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে ফ্লাইট চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং কারিগরি সমস্যা সমাধান হলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব ফ্লাইট স্বাভাবিক করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদেরকে অনলাইনে ফ্লাইটের সময়সূচি নিয়মিত চেক করার পরামর্শ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আবহাওয়া অফিসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং বিমানের রক্ষণাবেক্ষণে আরও কঠোর মানদণ্ড প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা এখন কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার।