রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সন্ধ্যার সময় একটি ভয়ংকর ছিনতাই মামলা ঘটেছে, যাতে এক যুবককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। সাদেক খান রোড এলাকায় পৌঁছালে অন্তত পাঁচজন ছিনতাইকারী তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। হৃদয় নামের ওই যুবককে চাপাতি দিয়ে পিঠ ও কোমরে কুপিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোটরসাইকেল এবং ব্যাগে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই আহত যুবককে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, হৃদয় সন্ধ্যার দিকে নিজের মোটরসাইকেলে করে সাদেক খান রোড দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই পিছন থেকে আসা একটি গাড়ি থেকে নেমে আসে পাঁচজন ছিনতাইকারী। তাঁরা হৃদয়ের গতিরোধ করে তাঁকে থামাতে বাধ্য করে। প্রতিরোধ করায় ছিনতাইকারীরা চাপাতি দিয়ে তাঁর পিঠ ও কোমরে কুপিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় হৃদয়ের কাছ থেকে মোটরসাইকেল এবং ব্যাগে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ছিনতাইকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী জানিয়েছে, ওই এলাকায় সন্ধ্যার পরে ছিনতাইকারীদের দাপট বেড়েছে, যা জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আহত যুবকের পরিবার ও বন্ধুরা হাসপাতালে ছুটে যায় এবং তাঁদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহে এই এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বহুগুণ বেড়েছে। তাঁরা পুলিশের কাছে দ্রুত ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সন্ধ্যার পরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন। জনজীবনে এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে, যেখানে মানুষ এখন সন্ধ্যার পরে বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে মোহাম্মদপুর থানার আওতাধীন এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জনগণকে সন্ধ্যার পরে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং কোনো অনিরাপদ পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, শীঘ্রই ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।