ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকে বই দেরিতে ফেরত দিলে এক টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। তবে ঐ এক টাকার অর্থ পরিশোধের জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে গিয়ে নগদ জমা করতে হয়। এই প্রথা সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে, কারণ নগদ লেনদেনের জন্য অতিরিক্ত সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই ব্যবস্থা আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত, তবে বাস্তবে এটি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা যোগ করেছে। বই ফেরত দেরি করা শিক্ষার্থীর জন্য এই শাস্তি প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্য হল গ্রন্থাগারের সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষার্থীর জন্য বইয়ের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। তবু ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত ধাপটি শিক্ষার্থীর সময়সূচি ও আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা প্রণালী ১৯৯০ দশকের শেষের দিকে গৃহীত হয়, যখন নগদ লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণে ব্যাংকিং সিস্টেমকে একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়। সেই সময়ে জরিমানা হার এক টাকা নির্ধারিত হয়েছিল, যা বইয়ের ক্ষতি বা দেরি রোধের জন্য ন্যূনতম শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং ডিজিটাল পেমেন্টের বিস্তারের পরেও বিশ্ববিদ্যালয় এখনও ঐ পুরোনো পদ্ধতিই বজায় রেখেছে। ব্যাংকে নগদ জমা করার প্রয়োজনীয়তা, ব্যাংক শাখার সীমিত সময়সূচি এবং নগদ নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে জরিমানা সংগ্রহের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে, যা শিক্ষার্থীর সুবিধা বৃদ্ধি করেছে। ঢাবি এই দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে বলে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
শিক্ষার্থী গোষ্ঠী ও ছাত্র ইউনিয়ন এই নীতি নিয়ে একাধিক প্রতিবাদসূচক র্যালি ও অনলাইন ক্যাম্পেইন চালু করেছে। ছাত্র প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন, “এক টাকার জরিমানা হলেও ব্যাংকে যেতে বাধ্য করা শিক্ষার্থীর সময়ের অপচয় এবং আর্থিক নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে।” গ্রন্থাগার প্রধানের মতে, “বই ফেরত দেরি হলে জরিমানা আরোপের মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা বাড়ানো হয়, আর ব্যাংকে নগদ জমা করা হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয়।” শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, “বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের পদ্ধতি বিদ্যমান, তবে আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হচ্ছে।” এই বিবৃতি গুলো শিক্ষার্থীর মধ্যে আলোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমানে এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা কমিটি ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার পরিবর্তে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে বা ক্যাম্পাসের স্বয়ংক্রিয় টেলিক্যাশ সিস্টেম প্রবর্তনের সম্ভাবনা যাচাই করছে। পাশাপাশি, জরিমানা হার পুনর্নির্ধারণ ও নগদ লেনদেনের বিকল্প ব্যবস্থা গৃহীত হলে শিক্ষার্থীর আর্থিক চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসন এছাড়াও জরিমানা সংগ্রহের জন্য ক্যাম্পাসের স্বয়ংক্রিয় টেলিক্যাশ মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যা শিক্ষার্থীর প্রবেশদ্বারেই নগদ বা ইলেকট্রনিক পেমেন্ট গ্রহণ করবে। আগামী মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নীতি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়কে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা অনুমোদিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে জরিমানা সংগ্রহের নতুন ধারা শুরু হবে।