বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাত্র সাত মাসের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে ৭২ জন শিশু। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়া। এই উপজেলায় মাত্র সাত মাসে ৫৬টি পানিতে ডোবার ঘটনায় ৪৩ জন শিশু নিহত হয়েছে, যা দেশের অন্যতম দুর্ভাগ্যজনক পরিসংখ্যান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে নদী, খাল, বিল ও সমুদ্রের উপকূলীয় এলাকা বিস্তৃত। এই অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবন পানির সাথে জড়িত। শিশুরা প্রাকৃতিকভাবে পানিতে সাঁতার কাটা ও খেলার প্রতি আকৃষ্ট হয়। তবে অনেক সময় অজ্ঞতা, অবহেলা এবং পানির গভীরতা সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে তারা বিপদে পড়ে। হাতিয়া উপজেলায় এত বেশি শিশুমৃত্যুর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা স্থানীয় জলবায়ু, পানির স্রোত এবং শিশুদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবকে দায়ী করছেন। এছাড়াও, পিতামাতা বা অভিভাবকদের দায়িত্বশীলতা ও সচেতনতার অভাব এই মর্মান্তিক ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, প্রতিদিনই নতুন করে শিশুদের মৃত্যুর খবর শুনতে হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের মনকে ভেঙে দিচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষকরা ও সামাজিক কর্মকর্তারা জানান, শিশুদের মধ্যে সাঁতার শেখার সুযোগ সীমিত এবং পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় জ্ঞান তাদের কাছে নেই। জনজীবনে এই ঘটনার প্রভাব অত্যন্ত গভীর, বিশেষ করে যারা নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য, তাদের জন্য শিশু হারানো মানেই জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি। স্থানীয় সমাজে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুমৃত্যু রোধে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা মূলক কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়াও, বিদ্যালয়গুলোতে সাঁতার শেখা ও পানিতে নিরাপত্তা বিষয়ক পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে অভিভাবকদের সচেতন করা, স্থানীয় পানি সম্পদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং শিশুদের নিরাপদ খেলার জায়গা তৈরির মাধ্যমে শিশুমৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী দিনে এই মর্মান্তিক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।