সকাল সাতটার দিকে ঢাকার ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে পাঁচজন তরুণ হাফপ্যান্ট পরিধান করে প্রতিবাদ জানায়। তারা গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে একই স্টেশনে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে গিয়েছিলেন, যেখানে প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনের উপর পুলিশ হেনসতা প্রয়োগের অভিযোগ উঠে। তরুণদের এই নীরব প্রতিবাদটি সরাসরি হেনস্তার শিকার প্রশিক্ষকের প্রতি ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি বহন করে, যা শহরের জনপরিবহনের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে।
সাজ্জাদ হোসেনের উপর হেনস্তার ঘটনা ২৭ সেপ্টেম্বরের সন্ধ্যায় মেট্রোরেল ট্রেনে ঘটেছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা হোসেনকে শারীরিকভাবে ধাক্কা দিয়ে, চিৎকার করে এবং তার পোশাকের উপর অবমাননাকর মন্তব্য করে। এই ঘটনার পর হোসেনের পরিবার ও সহকর্মীরা মিডিয়ার মাধ্যমে অভিযোগ তুলে, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বিভাগ পূর্বে কিছুবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে সমালোচিত হয়েছে; এই ঘটনা সেই সমালোচনার নতুন দিক উন্মোচিত করে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী তরুণরা জানায়, হাফপ্যান্ট পরা তাদের জন্য কোনো ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়, বরং তারা যে ন্যায়বিচার চায় তার প্রতীক। তারা স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি ছোট স্লোগান ব্যানারও প্রদর্শন করে, যেখানে লেখা আছে “পুলিশের হেনসতা শেষ হোক, মেট্রোরেল নিরাপদ হোক”। সাজ্জাদ হোসেন নিজে মিডিয়ার সামনে গিয়ে ঘটনার শিকার হিসেবে তার শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি বর্ণনা করেন এবং পুলিশকে কঠোর শাস্তি দাবি করেন। শহরের নাগরিকদের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি বিস্তৃত সমবেদনা দেখা যায়; সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে হাজারো মন্তব্যে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ বিভাগ দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং সংশ্লিষ্ট অফিসারদের অস্থায়ীভাবে বরখাস্তের আদেশ জারি করে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষও নিরাপত্তা কর্মী প্রশিক্ষণ পুনর্বিবেচনা, ক্যামেরা সিস্টেমের উন্নয়ন এবং যাত্রীদের অভিযোগের দ্রুত সমাধানের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার ঘোষণা দেয়। সরকারী পর্যায়ে, মন্ত্রিপরিষদে মানবাধিকার বিষয়ক একটি বিশেষ সেশনের আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে এই ধরনের হেনসতা রোধে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার প্রস্তাব থাকবে। ভবিষ্যতে মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনা নিরাপত্তা নীতি পুনর্গঠন, পুলিশ ও মেট্রোরেল কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং জনসাধারণের বিশ্বাস পুনর্স্থাপনের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।