সাম্প্রতিককালে সরকার নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ঘোষণা দিলেও অর্থ সংগ্রহে হিমশিমের খবর উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের বাজেট চক্রে এই পদক্ষেপটি শ্রমিকদের জীবিকা উন্নত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হলেও, রাজস্বের ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতির চাপের কারণে তহবিল সংগ্রহে বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এই কাঠামোতে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগের বেতন ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা মোট ১.২ ট্রিলিয়ন টাকার ব্যয় বাড়াবে।

পূর্ববর্তী বেতন কাঠামো ২০১৯ সালে নির্ধারিত হয়েছিল এবং তখন থেকে বহুবার সমন্বয় করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে রপ্তানি হ্রাস ও বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের কমে যাওয়া, সরকারকে নতুন কাঠামোতে অর্থায়নের জন্য বিকল্প পথ খোঁজার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এছাড়া, মুদ্রাস্ফীতি ৮% এর উপরে থাকায় শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বেতন বৃদ্ধির দাবিগুলি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

অর্থমন্ত্রী মেহেদী আহমেদ এই সিদ্ধান্তের পেছনে দেশের সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রমিকদের আয় বাড়ানো এবং অর্থনীতিতে চাহিদা জাগানো আমাদের মূল লক্ষ্য।” তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা সমালোচনা করে বলেন, “এই পদক্ষেপটি অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয় এবং ভবিষ্যতে আর্থিক সংকট বাড়িয়ে তুলবে।” সাধারণ জনগণও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে; কিছুজন বেতন বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছে, আবার অন্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে এই পদক্ষেপে করদাতাদের উপর অতিরিক্ত বোঝা পড়বে।

সরকার বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে আলোচনার মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থায়নের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছে। এছাড়া, কর সংগ্রহ বাড়ানো, কর ফাঁকি রোধ করা এবং বাজেটের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে, সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে রপ্তানি উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেবে, যাতে নতুন বেতন কাঠামো টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।