সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে আহসান এইচ মনসুরের পরিবর্তে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ করা হয়েছে। মোস্তাকুর রহমানকে দেশের প্রথম ব্যবসায়ী পটভূমি থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত করা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। পূর্বে তিনি বেসরকারি সেক্টরে বহু দশক ধরে হিসাববিজ্ঞান ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার বাংলাদেশ শাখার আর্থিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে সরকার ব্যবসায়িক দক্ষতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা সংমিশ্রণ করে দেশের মুদ্রা নীতি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য প্রকাশ করেছে।

মো. মোস্তাকুর রহমানের পেশাগত জীবন হিসাববিদ্যায় সূচনা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক মানের আর্থিক বিশ্লেষক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। ১৯৯০-এর দশকে তিনি একটি বেসরকারি হিসাব সংস্থায় যোগদান করে দ্রুতই শীর্ষ ব্যবস্থাপনা স্তরে উন্নীত হন। ২০০৫ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তিনি একটি বহুজাতিক ব্যাংকের বাংলাদেশ শাখার আর্থিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তিনি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তার এই অভিজ্ঞতা তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে উপযুক্ত প্রার্থী করে তুলেছে।

নিয়োগের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আর্থিক বিশ্লেষকগণ তৎক্ষণাৎ মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারকে প্রশংসা করে বলেছেন, ব্যবসায়িক পটভূমি যুক্ত গভর্নর মুদ্রা নীতি বাস্তবায়নে নতুন দৃষ্টিকোণ আনবে। বিরোধী দল বিএনপি যদিও স্বীকৃতি দিয়েছে যে মোস্তাকুরের আর্থিক দক্ষতা দেশের জন্য উপকারী, তবে তিনি পূর্বে ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্বচ্ছতা ও স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। স্বতন্ত্র আর্থিক বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, তার অভিজ্ঞতা মুদ্রা সঙ্কট মোকাবেলায় এবং মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে, তবে তিনি ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করতে হবে। সাধারণ জনগণও এই নিয়োগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে, বিশেষ করে ঋণ সাশ্রয়ী হারের প্রত্যাশা বাড়ছে।

গভর্নর মোস্তাকুরের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ইতিমধ্যে কয়েকটি তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। প্রথমে তিনি মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন সূচক প্রবর্তন এবং ব্যাংকিং সেক্টরে তরলতা বাড়ানোর জন্য স্বল্পমেয়াদী রিফাইন্যান্সিং পরিকল্পনা চালু করার কথা বলেছেন। এছাড়া তিনি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের বিস্তৃতি এবং গ্রামীণ ব্যাংকিং উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। সরকারও তার সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন আইন সংশোধনের প্রস্তাব পেশ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণ নিশ্চিত হয়। এই পদক্ষেপগুলো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।